জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক ও জেলা শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিক বলেছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কার প্রয়োজন। শ্রমজীবী, পেশাজীবীসহ সমাজের মেহনতি মানুষের প্রকৃত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ এবং স্ব-শাসিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালুর কোনো বিকল্প নেই। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ক্ষমতায়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক নানা দিক এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দলের সাংগঠনিক ভিত আরও শক্তিশালী করতে এবং জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জেএসডির কর্মসূচিকে গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (১৮ জুলাই) নগরীর হাওয়াপাড়াস্থ জেএসডির অস্থায়ী কার্যালয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সিলেট বিভাগের উদ্যোগে বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
‘শ্রমজীবী-কর্মজীবী পেশাজীবী জনগণ এক হও’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সভায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও রূপরেখা তুলে ধরা হয়।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সিলেট বিভাগের যুগ্ম সমন্বয়ক ও মৌলভীবাজার কমিটির সভাপতি আহসান উদ্দিন চৌধুরী সুইট এর পরিচালনায় সমন্বয় সভায় বক্তব্য রাখেন, সিলেট বিভাগের সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এস. এম সামছুল আলম নিক্সন, সমন্বয় কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলার সভাপতি দেওয়ান ইসকন্দর রাজা, সমন্বয় কমিটির সদস্য ও সুনামগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মো: মোজাম্মেল হক, সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী দেলওয়ার হোসেন জিলন, সমন্বয় কমিটির সদস্য ও জেলা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
জেএসডির বিভাগীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূলত ৩টি মৌলিক ও সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। দাবি সমূহ হলো দেশের বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করে একটি ‘দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ’ চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়। সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চ কক্ষে শ্রম, কর্ম ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলে ধরা হয়, যাতে সব স্তরের মানুষের প্রকৃত মতামত রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হতে পারে। দেশের প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে সমগ্র বাংলাদেশকে ‘৯টি প্রদেশে’ বিভক্ত করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য শক্তিশালী ‘স্ব-শাসিত স্থানীয় সরকার’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।



















