বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার প্রাণহানি, শিশুদের সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

  • প্রকাশের সময় : ২৪/০৭/২০২৬ ০৩:১৩:৫৯ PM

Share
3

২৫ জুলাই পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য "Unite to Turn the Tide, যার বাংলা ভাবার্থ—"আসুন, সবাই মিলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর স্রোত থামাই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর নেতৃত্বে পালিত এই দিবস উপলক্ষে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পানিতে ডুবে অধিকাংশ মৃত্যুই রোধ করা সম্ভব।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শিশু পুকুরে ডুবে যাওয়ার সময় প্রাণপণ চেষ্টা করছে, আরেকটি শিশু অসহায়ের মতো চিৎকার করে সাহায্য চাইছে। ঘটনাটি আবারও শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকির ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ পানিতে ডুবে মারা যান, যার বড় অংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। বিশেষ করে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। নদী, খাল, বিল, পুকুর ও জলাশয়ে ঘেরা বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে এ ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে প্রাণ হারান, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের কখনো একা পানির কাছে যেতে না দেওয়া, পুকুর ও জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কমিউনিটি ডে-কেয়ার চালু করা, বিদ্যালয়ে সাঁতার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং সিপিআর (CPR) প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।

বাংলাদেশে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB) পরিচালিত 'আঁচল' এবং 'SwimSafe' কর্মসূচি ইতোমধ্যে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর হার কমাতে ইতিবাচক ফল দেখিয়েছে।

বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবসে বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, এই দিবস যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য এই নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয় সংক্ষেপে:
শিশুদের কখনো একা পানির কাছে যেতে না দেওয়া।

পুকুর ও জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি।

শিশুদের জন্য কমিউনিটি ডে-কেয়ার ব্যবস্থা চালু।

বিদ্যালয়ে সাঁতার ও পানি নিরাপত্তা শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।

উদ্ধারকৌশল ও সিপিআর প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য। সচেতনতা, সমন্বিত উদ্যোগ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারই পারে পানিতে ডুবে মৃত্যুর মিছিল থামাতে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৪ ১৫:১৩:৫৯