সিলেটের জাফলং, হরিপুর ও জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাই পণ্যের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেই ভিন্ন এক কৌশল বেছে নিয়েছে একটি চোরাচালান চক্র। 'সুরমা ট্রান্সপোর্ট' নামের একটি পরিবহন সংস্থাকে চুক্তির মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এর আড়ালে বড় ধরনের চোরাচালান সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে তরিকুল নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তরিকুল নিজের মালিকানাধীন দুটি পিকআপ গাড়ি ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত জাফলং, হরিপুর ও জৈন্তাপুরসহ সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে অবৈধভাবে ভারতীয় চোরাই পণ্য নিয়ে আসেন। সীমান্ত গলে আসা এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপদ সরবরাহের জন্য তিনি 'সুরমা ট্রান্সপোর্ট'-কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ট্রান্সপোর্টের বৈধ মালামালের নিচে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা হয় ভারতীয় কসমেটিকস, জিরা, ফুচকাসহ বিভিন্ন প্রকারের চোরাই পণ্য। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি এড়ানো এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সহজ হয়।এদিকে, চোরাচালানের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আয়ের পাশাপাশি তরিকুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কিছু সূত্র জানায়, চোরাচালানের অবৈধ টাকায় তিনি বিলাসী ও অনৈতিক জীবনযাপন করছেন। সিলেটের মাছিমপুর এলাকার 'সুন্দনী' নামক এক নারীর সাথে তার বিশেষ সখ্যতা রয়েছে এবং সম্প্রতি তরিকুল তাকে একটি নতুন মোবাইল ফোনও কিনে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।একটি নামকরা পরিবহন সংস্থাকে জিম্মি করে সীমান্ত চোরাচালান সচল রাখা এবং এই চক্রের পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় সচেতন মহল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত তরিকুলের বক্তব্য:এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তরিকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব দেন। সুরমা ট্রান্সপোর্টের আড়ালে চালকদের দিয়ে চোরাচালান এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই প্রতিবেদককে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, "আমার বিরুদ্ধে প্রতিদিন রোজ নিউজ করুক, আমার কোনো সমস্যা নাই।" কোনো প্রকার আইনি তোয়াক্কা না করে তার এমন বেপরোয়া মন্তব্য স্থানীয় সচেতন মহলকে আরও বিস্মিত করেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:




















