সিলেটে জামায়াতের আমির

‘ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন, না হলে জনগণই জবাব দেবে’

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০৭/২০২৬ ০৭:১৯:৩৬ PM

Share
6

 দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এ দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসন নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। ইনশাআল্লাহ, আমাদের আন্দোলন চলতেই থাকবে। প্রিয় সিলেটবাসী, লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হোন। ডাক এলে সবাইকে সাড়া দিতে হবে। ঘরে ঘরে আন্দোলনের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।


তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে। একসময় যারা নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তারাই এখন সেই অভিজ্ঞতা ভুলে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থার পথ অনুসরণ করছেন। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেপরোয়া দলীয়করণ এবং দুর্নীতিকে জাতীয়করণের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারকে সতর্ক করে জামায়াতের আমির বলেন, হাসিনাকে তাড়িয়েছি। যদি আপনারাও ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তাহলে জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে। জনগণ আপনাদের ছেড়ে কথা বলবে না। বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চায় না জনগণ। ফ্যাসিবাদ দমন না করলে জনগণ সরকারকেও প্রত্যাখ্যান করবে।

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছে। সেই গণরায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অসম্মান করা হবে। আমরা গণভোটকে অপমান করতে দেব না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না। জুলাইয়ের যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না। আমরা আমাদের অঙ্গীকারের সঙ্গে বেইমানি করব না। জীবন দিয়ে হলেও কথা রাখব, ইনশাআল্লাহ।

ঢাকায় ঘোষিত পরবর্তী কর্মসূচির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই প্রস্তুত থাকুন। ঢাকা থেকে ডাক আসবে। দাবি আদায়ে সবাইকে সেই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে।


সিলেটের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত ও উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবিও তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, প্রবাসী-অধ্যুষিত এ অঞ্চলের বহু ন্যায্য দাবি বছরের পর বছর ঝুলে আছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এখনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা হয়নি। দ্রুত সেটি বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে গিয়ে আমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছি। কারণ, সিলেটের রাস্তার অবস্থা। এই সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার করা হচ্ছে, কিন্তু তার কোনো সুফল মানুষ পাচ্ছে না। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বলেছি, সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করতে হলে আগে সিলেটের রাস্তা দিয়ে একবার আসুন। ঢাকা থেকে সিলেটে এলেই বাস্তব অবস্থা বুঝতে পারবেন। আমরা চাই, অবিলম্বে সিলেটের সড়কের কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া হোক।

সিলেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেটে একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। কিন্তু এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একইভাবে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ও এখনো নামমাত্র রয়েছে। অবিলম্বে এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে হবে।


সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের আরও অনেক ন্যায্য দাবি রয়েছে। যেহেতু তারা সরকারে আছেন, তাই তাদের কাছে দাবিগুলো তুলে ধরছি। আল্লাহ যদি আগামী দিনে আমাদের দেশ পরিচালনার সুযোগ দেন, তাহলে ইনশাআল্লাহ এসব দাবি বাস্তবায়ন করব।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চাঁনসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেট বিভাগের চার জেলা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে আলিয়া মাঠে এলে ব্যাপক জনসমাগম ঘটে।

উল্লেখ্য, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিল সিলেটের এই সমাবেশ।


সিলেট প্রেস / নিউজ ডেস্ক


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-২৫ ১৯:১৯:৩৬