সরকারি নিলামের নথিপত্র (ওকশন পেপার) জালিয়াতি করে বারবার ভারতীয় চোরাই পণ্য ও মাদকের চালান পার করার এক অভিনব কায়দা বেছে নিয়েছে একটি সিন্ডিকেট।
একটি বৈধ ওকশন পেপারকে ঢাল বানিয়ে অবৈধ মালামাল খালাস ও বহনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সিলেট কেন্দ্রিক এই চক্রের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন তরিকুল নামের এক ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট ও অবৈধ চোরাচালানের মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক বনে গেছেন তরিকুল। স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় সীমান্তবর্তী রুট ব্যবহার করে তিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন চোরাচালান ও মাদকের এই নেটওয়ার্ক।
সরেজমিনে সিলেটের চালিবন্দর এলাকার পুরাতন রাস্তার এইচ এম মার্কেটে অবস্থিত ‘নিউ সুরমা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সী’র কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় এক অস্পষ্ট চিত্র। একটি সচল ও পেশাদার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির স্বাভাবিক কার্যক্রম সেখানে অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ব্যানারটি মাঝখান থেকে ছেঁড়া ও অবহেলিত অবস্থায় ঝুলছে, এবং পেছনের সবকটি শাটার স্থায়ীভাবে বন্ধ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই পরিত্যক্ত ছদ্মবেশ ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। বাস্তবে বাইরে বন্ধ দেখালেও, নথিপত্রে তরিকুল সিন্ডিকেটের অবৈধ চোরাই পণ্য ও মাদকের চালান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবহনের জন্য এই এজেন্সির নাম ও রুট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জোরালো সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক ও চোরাচালানের পণ্য সংগ্রহ করে এই চক্রের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এই অবৈধ ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ ব্যবহার করে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তুলেছেন তরিকুল। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও নিজের অপকর্ম ঢাকার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
তবে সিন্ডিকেটটির অপতৎপরতা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার নজরদারিতে এসেছে।
দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওকশন পেপার জালিয়াতির রুট, পণ্য পরিবহন এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ভুয়া নথিপত্র তৈরি এবং চোরাচালানের পেছনে জড়িত সকল কুশীলবকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




















