সিলেটের দক্ষিণ সুরমার স্থায়ী বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. শামসুর রহমান শাহনুর চৌধুরী সহ স্ত্রী ও সন্তানদের নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার এজাহারভুক্ত ২নং আসামীকে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৮ জুলাই) দুপুরে অভিযান চালিয়ে কদমতলী বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী দক্ষিণ সুরমার স্বর্ণশিখা ১২৬ এর বাসিন্দা এলিছ চৌধুরীর স্ত্রী পারভিন বেগম। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, এলিছ চৌধুরীর মেয়ে ১নং আসামী রুমা চৌধুরী ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার হিরা মিয়ার ছেলে জুয়েল আহমদ।
মরহুম মো. শামসুর রহমান শাহনুর চৌধুরীর ছেলে শাকিল আহমদ কর্তৃক আমমোক্তারনামা প্রাপ্ত হয়ে মাননীয় মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমলী আদালত-২ সিলেটে এই মামলা দায়ের করেন হারুন আহমদের ছেলে পাবেল আহমদ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, বাদী কদমতলীর কুইন্স টাওয়ার এপার্টম্যান্টের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্বরত। এ এপ্যার্টমেন্টের মূল মালিক দক্ষিণ সুরমার স্বর্ণশিখা- ১২৬ এর বাসিন্দা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মো. শামসুর রহমান শাহনুর চৌধুরী। তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। শামসুর রহমানের স্পন্সরশীপে ও অভিভাকত্বে তার সৎভাই এলিছ চৌধুরীর মেয়ে ১নং আসামী রুমা চৌধুরী ও ২নং আসামী স্ত্রী পারভীন বেগমও তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। বর্তমানে ২নং আসামী পারভীন বেগম বাংলাদেশে বসবাস করছেন। শামসুর রহমান ১নং আসামী রুমা চৌধুরীর জন্য বিয়ের বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু ১নং ও ২নং আসামী অর্থ লোভের আশায় রাজি না হয়ে অন্যত্র বিয়ে করার জন্য শামসুর রহমানকে জানান, কিন্তু শামসুর রহমান তাতে রাজি হননি। এ ঘটনায় ১নং ও ২নং আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে দেশে অববস্থারত ৩নং আসামী জুয়েল আহমদকে জানান। ৩নং আসামী জুয়েলও শামসুর রহমানের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ২নং ও ৩নং আসামীর পরোচনায় ১নং আসামী রুমা চৌধুরী শামসুর রহমান ও স্ত্রী, ৩নং স্বাক্ষী মনোয়ার শাহনুর বুলিকে হত্যার চেষ্টা চালায়। প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য ও বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত পানি তাদের খাওয়ায়। এক পর্যায়ে শামসুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ০১/০৯/২০২১ইং তারিখে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিডস নর্থ মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তাকে দেখাশুনার জন্য ১নং আসামীকে দায়িত্ব দেওয়া হলে সে বার বার বিষাক্ত মিশ্রিত পানি শামসুর রহমান খাওয়ায়। অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ০৮/০৯/২০২১ইং তারিখে শামসুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন।
১নং আসামী সব সময় নেশা করতো বলেও জানা যায় এবং তার কাছ থেকে নেশা জাতীয় ড্রাগসও জব্দ করা হয়। ১নং আসামী এমন জঘন্যতম কাজের স্বাক্ষীও তার ছোট বোন আফসানা চৌধুরী। আফসানা চৌধুরী শামসুর রহমানের পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতেন। ১নং আসামীর সকল অপকর্মের প্রমাণ বাদীর নিকট রক্ষিত আছে। ১নং আসামী সব সময় ৩নং আসামীর সহিত যোগাযোগ ছিল। ১নং, ২নং ও ৩নং আসামীর সমস্ত অপকর্ম সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে সকল প্রমাণ পাওয়া যাবে। উক্ত আসামীদের এহেন কর্মকান্ডের বিচারের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।




















