চট্টগ্রামের আনোয়ারায় যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা এবং লাশ গুমের ১৪ বছর পর মামুনুর রশীদ ওরফে মামুন ওরফে ভূঁইয়া নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার। এর আগে, বৃহস্পতিবার নগরের কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মামুনুর রশীদ আনোয়ারা উপজেলার কৈখাইন এলাকার আব্দুস শুক্কুরের ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী কলি আক্তার বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রারচর এলাকার বাসিন্দা। ২০০২ সালে চট্টগ্রামে এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তিনি। ঐ সময় মামুনুর রশীদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মামুনকে বিয়ে করেন ভুক্তভোগী। যদিও পরবর্তীতে বিষয়টি মেনে নেয় ভুক্তভোগীর পরিবার।
এদিকে, বিয়ের পর থেকে ভুক্তভোগীর কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা। সৌদি আরব যাওয়ার জন্য মামুনকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দেয় ভুক্তভোগীর পরিবার। সেই টাকায় উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন শুরু করেন মামুন। এরই মধ্যে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় গ্রেফতার হন মামুন। মেয়ের সুখের জন্য ঋণ করে এক বছর আট মাস পর মামুনকে কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করেন ভুক্তভোগীর বাবা-মা। এরপর তাদের কাছ থেকে আরো ৫০ হাজার টাকা চান কর্মহীন মামুন। টাকা দিতে অপারগতা জানাতেই শুরু হয় ভুক্তভোগীর ওপর নির্যাতন।
২০০৯ সালের ২৬ মে বিকেলে ভুক্তভোগীর মা ফোন করলে মামুন জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ভুক্তভোগী। এর কিছুক্ষণ পরেই ফের মামুন ফোন করে জানান, ডায়রিয়ায় মারা গেছেন ভুক্তভোগী। শেষ হয়েছে দাফন-কাফনও।
এরপর ভুক্তভোগীর বাবা-মা মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আনোয়ারায় গিয়ে জানতে পারেন- ডায়রিয়ায় নয়, স্বামী মামুনের নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে মেয়ের। হত্যার আলামত নষ্ট করতে কাউকে না জানিয়ে দ্রুত লাশ দাফন করেন মামুন। ঐ ঘটনায় মামুনকে প্রধান আসামি করে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। এরপর থেকে পলাতক ছিলেন মামুন।
র্যাব কর্মকর্তা নুরুল আবছার বলেন, উক্ত মামলার আসামিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রাখে র্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নগরের কোতোয়ালি থানার ব্রিজঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মামুনুর রশীদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে স্বীকার করেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।




















