সিলেট মহানগরীতে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, অপরাধে জড়ানো ও তীব্র যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত সিএনজি অটোরিকশা। গ্রিল লাগিয়ে রিজার্ভ চলাচলের শর্তে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া সিএনজি অটোরিকশাগুলো মানছে না কোনো নিয়মকানুন। যেখানে সেখানে স্ট্যান্ড দিয়ে সড়ক সংকোচিত করা ও ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ যাত্রী সাধারণের।
মহানগরীতে নাম্বার বিহীন অবৈধ সিএনজি বুক ফুলিয়ে বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরলেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে এ সব অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের কারণে নগরীতে যানজট লেগেই তাকে। অন্যদিকে অবৈধ সিএনজি অটোরিক্সা চলাচলের কারণে ঘনঘন সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে। ফলে মহানগরী এলাকার রাস্তাঘাটে বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে।
নগরীতে সিলেট জেলা সিএনজি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং-৭০৭) ও সিলেট জেলা অটোরিক্সা চালক শ্রমিকজোটের (রেজি নং-২০৯৭) ৮টি শাখা রয়েছে। এ সব শাখার অধীনে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা।
অভিযোগ রয়েছে, মহানগর পুলিশের কতিপয় অসাধু সদস্যদের সঙ্গে সমঝোতা করেন এসব স্ট্যান্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। পুলিশের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন ‘টোকেন বা স্টিকার’। এ সব টোকেন বা স্টিকার দেখালেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। বিনিময়ে প্রতিটি স্ট্যান্ড থেকে মাসোয়ারা নেয় তারা। একেকটি সিএনজিকে ৩টি টোকেন দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার সিলেট- জকিগঞ্জ রোডের ওভারব্রিজের নিচে শ্রমিকজোট শাখার সিএনজি অটোরিক্সার একটি স্ট্যান্ড রয়েছে। এই শাখায় প্রায় ৮শ গাড়ি রয়েছে রেজিস্ট্রেশন বিহীন। একই রোডে বাইপাস এলাকায় রয়েছে আরো ৫শতাধিক নাম্বার বিহীন সিএনজি। টোকেনের মাধ্যমে প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসিক ১২শ টাকা নেয়া হয়। ওই স্ট্যান্ড থেকে গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ, ঢাকা দক্ষিণ রোডে অবাধে চলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি।
দক্ষিণ সুরমার ভূঁইয়ার পাম্প থেকে বিশ্বনাথ, জগন্নাথপুর, গোয়ালাবাজার, তাজপুর বাজার, জালালপুর বাজার, গহরপুর বাজার, লালাবাজার, ও বালাগঞ্জ রোডে চলে প্রায় দুই হাজার। নগরীর শিবগঞ্জ-সাদিপুর ফিলিং স্টেশন শাখায় চলে তিন শতাধিক সিএনজি অটোরিক্সা।
বাবনা-কামালবাজার-বিশ্বনাথ রোডে চলে নাম্বার বিহীন আরও ৭০০ শতাধিক সিএনজি অটোরিকশা। মেন্দিবাগ-মুরাদপুর-বাঘা রোডে অবৈধভাবে চলছে ৫শতাধিক সিএনজি অটোরিক্সা।
রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৫ শতাধিক গাড়ি চলছে টিলাগড় শাখা থেকে। মেজরটিলা ও পীরের বাজার ফিলিং স্টেশন স্ট্যান্ড থেকে চলে ৪শ অটোরিক্সা। সিলেট জেলা অটোরিক্সা সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং-৭০৭) অন্তর্ভুক্ত আম্বরখানা ও সালুটিকর শাখায় অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা চলছে প্রায় দেড় হাজার। আম্বরখানা শিবেরবাজার সড়কেও চলছে সমানভাবে। সিলেট কুমারগাও-টুকেরবাজার-লামাকাজী রোডে চলাচল করে ১হাজার ৫শতাধিক গাড়ী।
লিটন মিয়া,জালালপুর বাজার ও জহির মিয়া সালুটিকর এলাকার দুজন চালক জানান, যদি কখনো পুলিশ গাড়ি আটক করে তবে টোকেন দেখালেই ছেড়ে দেয়। ওই টোকেনে লেখা থাকে স্ট্যান্ডের নাম ও শাখা নাম্বার। লিটন বলেন আমরা প্রতিগাড়ী বাবদ মাসে ১হাজার ২শত টাকা দেই, আর জহির মিয়া বলেন তিনি মাসে ৪হাজার টাকা দেন।
সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমদ বলেন, ক্বীনব্রিজের ওপর দিয়ে রিকশা, সাইকেল ব্যথিত অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখলে ও সিটির সামন থেকে ধোপাদিঘীর পার পর্যন্ত বন্ধ থাকা পয়েন্টগুলো খোলে দিলে অনেকাংশ যানজট কমে আসবে। তার মতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অবৈধ নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাজারে বিক্রি হওয়ায় মালিকরা সিএনজি কিনছে। সড়কে চলার অযোগ্য যানবাহন-ই অবৈধ যানবাহন। সরকার রেজিস্ট্রেশন না দেয়ায় চালকরা বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সড়কে চলছে। সে সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে হবে বলে তিনি জানান।
এব্যপারে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল ওয়াহাব এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ না করায় তাহার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য গত ৩১জুলাই শেষ হয়েছে সিলেটে বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ। ট্রাফিক সপ্তাহ চলাকালে ৩ হাজার ৭৫৮টি পরিবহনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ২২ লাখ টাকা। দেশব্যাপী আলোচিত এ অভিযানে সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় চালিত ১০ হাজার রেজিস্ট্রেশন বিহীন (অবৈধ) সিএনজি অটোরিক্সা নজরে পড়েনি ট্রাফিক পুলিশের। অথচ ‘আবেদিত’ ‘অনটেস্ট’ লেখা এসব সিএনজি অটোরিক্সা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















