শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এই স্লোগানের জন্য নষ্ট হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে।
এদের পকেট বাড়ি করার কারণে সরকারের উদ্যোগ পৌঁছে না মানুষের কাছে।সাধারণ এক উপসহকারী প্রকৌশলী কারণে অতিষ্ঠ পুরো উপজেলার মানুষ। এ কর্মকর্তা নিজে থেকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে গ্রাহকদের সাথে উদ্দেশ্য মূলক ভাবে ও সৌজন্যমূলক আচরণ ও ও দুর্নীতি করছে কিনা তা খতিয়ে থেকে প্রয়োজন সরকারের সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা বিভাগের।
যদিও পাহাড় সমান দুর্নীতির অভিযোগে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। কিন্তু কর্মস্থল দেওয়া হয়েছে হবিগঞ্জে। তার দুর্নীতির ফিলিস্তিনে শুনে জানা যায় এ দেশ স্বাধীন হয়েছে যাদের জন্য সেই বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও তার কাছ থেকে রেহাই পায় নাই। এমন কর্মকর্তাকে ক্লোজ করে দুর্নীতি শুরু করে প্রমাণিত হলে প্রয়োজন বিভাগীয় ব্যবস্থা বলে মনে করছেন যদি উপজেলার পৃথিবীর গ্রাহকরা।
অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর বদলি হলেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে কর্মরত পিডিবি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনসারুল কবির শামীম। জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একের পর এক পিডিবির প্রকৌশলী শামীমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি পিডিবি’র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) বিউবি সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির ও বিতরণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আরাফাত-আল-মাজিদ ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে তাঁর বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পিডিবির দুর্নীতিবাজ এ কর্মকর্তার বদলির খবরে জুড়ী উপজেলার সাধারণ গ্রাহকরা স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। এছাড়াও তাৎক্ষণিক ভুক্তভোগী অনেক সাধারণ গ্রাহক মিষ্টি বিতরণ করেছেন। এসময় তারা এ কর্মকর্তার অনিয়ম দুর্নীতির বিচার চেয়ে চাকুরী থেকে অপসারণ দাবি করেন। সম্প্রতি সময়ে এ প্রকৌশলীর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে পিডিবি অফিসসহ পুরো উপজেলায় তার বদলির বিষয়ে গুঞ্জন উঠে। বদলির গুঞ্জন উঠায় তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী অনেক সাধারণ গ্রাহক ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে পিডিবি অফিসে অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এছাড়া গনমাধ্যমে প্রকৌশলী আনসারুল কবির শামীমের দুর্নীতির বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে
বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় নির্বাচিত বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা পিডিবির এ দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সম্পাদক রিংকু রঞ্জন দাস বলেন, পিডিবির এ কর্মকর্তা দীর্ঘ দিন জুড়ীতে থাকার সুবাদে দুর্নীতির সীমা লংঘন করেছেন। তাকে অবিলম্বে এ উপজেলা থেকে অপসারণের করে দুর্নীতি অনিয়মের বিচার দাবি করেন। সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুম রেজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এত অনিয়ম দুর্নীতির পরও এ কর্মকর্তা জুড়ীতে ৯ বছর ধরে বহাল আছেন। গত কয়েকদিন আগে অনিয়মের মাধ্যমে এ কর্মকর্তা একজন মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীর লাইন কেটে নিয়ে এসেছে। মুক্তিযুদ্ধারাও তার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না। পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম রুয়েল বলেন, আমার ইউনিয়নের হতদরিদ্র আব্দুল বারী নামের এক কৃষককে ১৪ হাজার টাকার বিনিময়ে বৈধ মিটার না দিয়ে অন্য নামের আরেকজনের মিটার সংযোগ দেয় পিডিবির এ কর্মকর্তা। পরবর্তীতে কয়েকমাস পর এ সংযোগ অবৈধ আখ্যা দিয়ে ৮৭ হাজার টাকার মামলা দিয়ে ওই কৃষক কে জেল খাটান পিডিবির এ কর্মকর্তা। সভায় ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সেলু এ কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরে অবিলম্বে তার অপসারণসহ বিচার দাবি করেন।
পিডিবির জুড়ী অফিসের ইলেকট্রিশিয়ান রবিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘ ১৫/২০ বছর যাবৎ ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করছি। বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২২ টি ফাইলে স্বাক্ষর বাবদ প্রকৌশলী শামীম আমার কাছ থেকে মোট ৪৪ হাজার টাকা ঘুষ নেন। এ প্রকৌশলীর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর বদলির গুঞ্জন উঠলে আমি ঘুষের ৪৪ হাজার টাকা ফেরত চাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি আমাকে সকল স্টাফদের সামনে দরজা বন্ধ করে পেটান। আমি আমার টাকা ফেরত সহ অবিচারের বিচার চাই।
উপজেলার উত্তর সাগরনাল গ্রামের মৃত কারী আরজান আলীর ছেলে কৃষক হাবিবুর রহমান কালা (৬০) অভিযোগ করে বলেন, প্রকৌশলী শামীম কয়েকমাস আগে আমার বাড়ীর সংযোগ অবৈধ বলে মিটার কেটে নেন। পরে অফিসে গেলে তিনি বলেন মামলা হলে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ হবে। খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করলে পরবর্তীতে ৩৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মিটার সংযোগ দেন। আমার মত একজন নিরীহ কৃষককে মামলার ভয় দেখিয়ে ৩৩ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার বিচারসহ টাকা ফেরত চাই।
ঠিকাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা তার বদলিতে খুশি হলেও তার দুর্নীতির ও অপকর্মের বিচার চাই।
পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের কল্যাণের জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ প্রকৌশলী শামীমের মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের বদনাম হচ্ছে। শামীম একজন কর্মকর্তা নয় সে একজন ডাকাত। আমরা তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিচার চাই।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















