নগরবাসীর ভোগান্তি চরমে পর্ব-৪

সিলেটে সিএনজি চালকদের কাছে জিম্মি নগরবাসী

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৪/২০২৩ ০১:২২:৪০ AM

Share
71

সিলেট মহানগরে ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য, অপরাধে জড়ানো ও তীব্র যানজটের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত সিএনজি অটোরিকশা। গ্রিল লাগিয়ে রিজার্ভ চলাচলের শর্তে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া সিএনজি অটোরিকশাগুলো মানছে না কোনো নিয়মকানুন।

যেখানে সেখানে স্ট্যান্ড দিয়ে সড়ক সংকোচিত করা ও ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ যাত্রী সাধারণের। নগরীর আম্বরখানা থেকে টিলাগড় পর্যন্ত সিএনজি অটোরিকশায় জনপ্রতি ভাড়া ১৫ টাকা আর টিলাগড় থেকে আম্বরখানা ২০ টাকা। বন্দর বাজার থেকে টুকেরবাজার তেমুখী পর্যস্ত ৩০ টাকা ভাড়া। আর রাতের আঁধারে দিনের ভাড়ার দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে চালকরা। করোনাকালীন সময় পাঁচজনের পরিবর্তে তিনজন যাত্রী বহন করে ও পাঁচজনের ভাড়া তিনজনের কাছ থেকে আদায় করে প্রতিরোডে সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। করোনার প্রভাব কমে আসলে তিনজন যাত্রীর স্থলে পাঁচজন যাত্রী বহণ করা হলেও এখন পর্যন্ত কমানো হয়নি ভাড়া। পরিবহনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় তেল চালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ে। তবে গ্যাসের দাম না বাড়লেও চালকরা গ্যাস তেলের দাম ভাড়ার মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে ইচ্ছেমত ভাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করছে।

চালকদের কাছে জিম্মি হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণদের। প্রায় সময় ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও চালকদের বাকবিতণ্ডা, কখনো হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। একতৃতীয়াংশ চালক স্থানীয় হওয়ায় প্রতিবাদ করলে বেঁধে যায় ঝগড়া বিবাদ। সে কারণে বেশিরভাগ যাত্রী ঝামেলা এড়াতে চালকদের কথামত ভাড়া দিয়ে চলে যান। কামরান চত্বরে ৬ থেকে ৭জন চালক এক যাত্রীকে ঘিরে ধরে। এক চালক ওই যাত্রীকে বারবার মারতে তেরে আসলে অন্যরা থামিয়ে দিচ্ছে। বিষয়টি দেখে এগিয়ে গিয়ে জানা যায়, অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় প্রতিবাদ করলে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। পাশে থাকা কয়েক দোকানদার বলেন, ভাড়া নিয়ে এমন ঘটনা নতুন নয়, নিত্যদিনের।

মহানগরীতে শতাধিক স্ট্যান্ডের চালকরা লোকাল ভাড়া যাত্রী প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা, দূরপাল্লার যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ থেকে ৫০ টা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছে। যেখানে সেখানে যাত্রী উঠানো নামানো, সড়ক দখল করে অবৈধ স্ট্যান্ড দেয়ার কারণে নগরীতে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণের বাহিরে গিয়ে সিএনজি চালকরা নৈরাজ্য কায়েম করে চলেছে। চিহ্নিত অপরাধীদের ছত্রছায়ায় অনেকে সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে নানা অপকর্ম করার সাথে জড়িত রয়েছে। যদিও শ্রমিক নেতারা বলছেন অপরাধে জড়িত চালকদের চিহ্নিত করার জন্য মাঠে তাদের লোক কাজ করছে। এ পর্যন্ত কয়েকজনকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন। তারা এখন জেলে। সিএনজি অটোরিকশা চলবে মিটারে না চুক্তিতে। প্রতি কিলোমিটারের বিপরীতে কত ভাড়া। কতজন যাত্রী বহন করা যাবে। বয়স কত হলে চালকরা সিএনজি অটোরিকশা চালাতে পারবে। সিএনজিতে গ্রিল লাগানো বাধ্যতামূলক হবে কি না এসব বিষয়ে সিলেটে নীতিমালা না থাকায় চালকরাই খুশিমতো নির্ধারণ করে থাকেন বিভিন্ন রোডের ভাড়া।

এদিকে, ১৮ বছরের নিচে অনেক তরুণকে বেপরোয়া গতিতে সিএনজি চালাতে দেখা যায়। মহানগরীতে যে সব সিএনজি দিয়ে অপরাধ সংগঠিত হয় সমীক্ষায় দেখা গেছে তার অধিকাংশের চালক তরুণ বয়সের। ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিকশা পরিচালনার নীতিমালার ন্যায় সিলেট নীতিমালার আওতায় আসলে স্বস্তি ফিরবে যাত্রী সাধারণের মাঝে। এমনটা প্রত্যাশা চাকুরীজীবী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী ছাত্রছাত্রীসহ যাত্রী সাধারণের।

সিলেট জেলা সিএনজিচালিত অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জাকারিয়া আহমদ সিলেটপ্রেস কে বলেন, ক্বীনব্রিজের ওপর দিয়ে রিকশা, সাইকেল ব্যথিত অন্যান্য যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখলে ও সিটির সামন থেকে ধোপাদিঘীর পার পর্যন্ত বন্ধ থাকা পয়েন্টগুলো খোলে দিলে অনেকাংশ যানজট কমে আসবে। তার মতে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অবৈধ নয় উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, বাজারে বিক্রি হওয়ায় মালিকরা সিএনজি কিনছে। সড়কে চলার অযোগ্য যানবাহন-ই অবৈধ যানবাহন। সরকার রেজিস্ট্রেশন না দেয়ায় চালকরা বিভিন্ন মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সড়কে চলছে। সে সংখ্যা ২০ হাজারের নিচে হবে বলে তিনি জানান।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, যাত্রীদের হয়রানি কমাতে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিআরটিএ এর সাথে কথা বলে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।


সিলেট প্রেস / ০৯ এপ্রিল ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
জাবেদ এমরান

জাবেদ এমরান

প্রকাশ: ২০২৩-০৪-০৯ ০১:২২:৪০