সিলেট নগর ও এর আশপাশ এলাকায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চোরাচালানের মাধ্যমে আনিত ট্রাক ভর্তি ভারতীয় মালামাল সহ লোকজন আটক হচ্ছে সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। গোয়াইনঘাট,জাফলং,কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে আসা এসব চোরাচালান ভর্তি ছোট বড় ট্রাকগুলো সিলেট মহানগরে প্রবেশ করে সিলেট তামাবিল সড়ক দিয়ে। সিলেট মহানগরে প্রবেশ স্থান বটেশ্বর সেনানিবাস বোর্ড স্কুলের সামন থেকে শহরমুখী সড়ক হলো শাহপরাণ (রহ.) থানা এলাকা।
সীমান্ত থেকে এসে সিলেট মহানগরে শাহপরাণ থানা এলাকায় প্রবেশ করলে ফরহাদ খাঁর পুল পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই শাহ পরান থানার আওতায় পড়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় শাহপরান থানার পুলিশ সীমান্ত থেকে নিয়ে আসা ট্রাক ভর্তি চোরাচালানের মালামাল আটক করতে পারেনা।
শাহপরাণ থানা পুলিশের এই ব্যর্থতার নেপথ্যে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে? সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে চান না কেন, সে বিষয়টিও রহস্যে ঘেরা। গত কয়েকদিন আগে সারজমিনে দেখা গেছে,ডিবি পুলিশকে ফাঁকি দিতে অভিনব কায়দায় ডিসটিক ট্রাক ও লরিট্রাক ভর্তি ভারতীয় চিনির চালান বাহী গাড়ি ওপেন সদর সীমান্তের প্রবেশ মুখ শাহপরান থানাধীন বটেশ্বর বাজারের বোর্ড স্কুল গেইটে ডিউটিতে থাকা শাহপরান থানা পুলিশের সামনে দিয়ে প্রবেশ করলো। কর্তব্যরত পুলিশ গাড়ীগুলোকে সিগন্যাল দিলে গাড়ীতে থাকা অজ্ঞাত ব্যাক্তি পুলিশকে পিচ্চি হান্নানের মাল বলে জানাতেই গাড়ী আটক না করেই ছেড়ে দিলো। এই প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিকট ভারতীয় চিনি বহনকারী গাড়ী আটক না করে ছেড়ে দেয়ার কারন জানতে চাইলে তারা জানান,এ বিষয়ে তারা কিছু বলতে পারবেন না, এটা তাদের উর্ধতন মহলের হুকুম। পুলিশ ও প্রতিবেদকের সামন দিয়ে পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ভারতীয় চিনিবাহী ট্রাক ঠিক আগের মতই পিচ্ছি হান্নানের মাল পরিচয় দিয়ে শাহপরান থানা এলাকায় প্রবেশ করে শহরে চলে এলো। বুঝা গেলো অদৃশ্য কারনে চোরাচালানীদের কাছে নিরুপায় হয়ে আছে শাহপরান থানার পুলিশ! সেই অদৃশ্য ক্ষমতাধর শক্তির বাহিরে থানার যে পুলিশ সদস্য যাবে তার কপালে জুটবে বদলী। অতীতেও নাকী সেই অদৃশ্য শক্তির কথার অবাধ্য হবার কারনে ঘটেছে অহরহ বদলীর ঘটনা। বদলী আতংকের কারনেই নাকী শাহপরান থানার পুলিশ চোরাচালানীদের কাছে জিম্মি ও নিরুপায় হয়ে আছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় কালোটাকার বিনিময়ে সিলেটের শীর্ষ চোরাকারবারীদের আনিত নিষিদ্ধ নানান পন্য নির্বিঘ্নে সিলেট নগরীতে প্রবেশ করার সুযোগ করে দিচ্ছে সেই অদৃশ্য শক্তি। ফলে বানের পানির মকো পুলিশের বিনা বাধায় সিলেটের কালিঘাটসহ বিভিন্ন বাজারে ডুকছে ভারতীয় চোরাচালানের পন্য সামগ্রী।
হরিপুরের শীর্ষ চোরাকারবারী বদরুল ও পিচ্ছি আবুলের কাছ থেকে ভারতীয় চিনির গাড়ী প্রতি ৬ হাজার, হরিপুরের আরেক শীর্ষ চোরাকারবারী সুয়েদের কাছ থেকে ভারতীয় কসমেটিক্সের গাড়ী প্রতি ২০ হাজার টাকা,হরিপুরের চোরাকারবারী আফাজের কাছ থেকে ভারতীয় শাড়ীর গাড়ী প্রতি ২৫ হাজার টাকা,হরিপুরের শীর্ষ আরেক চোরাকারবারীর আছকরের কাছ থেকে ভারতীয় ঔষুধের গাড়ী প্রতি ১৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করা লাইন ক্লিয়ার বাবত।
কানাইঘাটের আরেক শীর্ষ চোরাকারবারী মাছুমের কাছ থেকেও ভারতীয় চিনির গাড়ী প্রতি ৮ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। এর আগে মাছুমের সাথে সেই অদৃশ্য শক্তির মাসিক চুক্তি ছিলো ৮ লক্ষ টাকা। এছাড়াও হরিপুরের চোরাকারবারী ওয়েছ,সুহেল,রানা,নাঈম ও প্রদীপের কাছ থেকে ভারতীয় চিনিবাহী ছোট পিকআপ গাড়ী প্রতি ৩ হাজার টাকা করে সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন মারফতে।
উল্লেখ্য অতীতে চোরাচালান নিয়ে একাধিক পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনায় এসেছিলো বিষয়টি। এক পর্যায়ে পুলিশ কমিশনারের তোপের মুখে পড়ে কৌশলে সাময়িক ভাবে কিছু দিন চোরাচালানের লাইন বন্ধ রেখে পরিস্থিতি ঠান্ডা করা হয়েছিলো।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















