তিন বছর পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা দিলেন সবুর মিয়া। যাবেন টাঙ্গাইল। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পড়েন বিপাকে। লাগেজ লাপাত্তা। ছুটে যান বিনামূল্যের হেল্প ডেস্কে।
সবুর মিয়াকে অবাক করে ডেস্কে কর্তব্যরত কর্মী দেখিয়ে দেন আরেক ব্যক্তিকে। তিনি লাগেজ পেতে সহায়তা করার জন্য ৫০০ টাকা চান। গত ১২ অক্টোবর বিমানবন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করে সবুর মিয়া সমকালকে বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিজেই করি শ্রমিকের কাজ। আমার লাগেজ নিতে লাগবে টাকা। এ কেমন হেল্প ডেস্ক?
হেল্প ডেস্কের ওই কর্মীর সঙ্গে সবুর মিয়ার বাদানুবাদ শেষ হয় সহযাত্রীর হস্তক্ষেপে। তিনি সঠিক তথ্য জেনে লাগেজ সংগ্রহ করে দিলে সবুর রওনা হন গ্রামের বাড়ি উদ্দেশে। তাঁর মতো অনেক যাত্রী হেল্প ডেস্ক থেকে সঠিক তথ্য ও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে প্রথমবার আকাশ ভ্রমণে আসা যাত্রীরা বেশি ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।
যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে ২০২২ সালের আগস্টে বহির্গমন টার্মিনালে তিন ও আগমনী টার্মিনালে দুটি হেল্প ডেস্ক বসানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টা কর্মীদের সেবা দেওয়ার কথা। তিন বছরেও হেল্প ডেস্কের সেবার মান উন্নত হয়নি।
যাত্রীদের অভিযোগ, সহায়তা চাইলে ডেস্ক থেকে আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রটোকল কর্মীদের দেখিয়ে দেওয়া হয়। এসব কর্মী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। তারা অর্থের বিনিময়ে সেবা দিয়ে থাকেন। সঠিক তথ্য জানা না থাকায় টাকা দিয়ে এ সেবা নিচ্ছেন অনেক যাত্রী।
বহির্গমন টার্মিনালে সিঙ্গাপুরগামী যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, তথ্য জানতে হেল্প ডেস্কের হটলাইনে কল দিলে কেউ ধরে না। সরাসরি এসেও তেমন তথ্য পাওয়া যায় না।
অভিযোগের বিষয়ে হেল্প ডেস্কের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হটলাইন প্রায়ই নষ্ট থাকে। তবে সরাসরি ডেস্কে কেউ এলে তাঁকে সাধ্যমতো কর্মীরা সহায়তা করেন।
সরেজমিন হেল্প ডেস্ক থেকে যাত্রীকে প্রটোকল কর্মীদের কাছে পাঠানোর সত্যতা পাওয়া যায়। মালয়েশিয়া থেকে আসা দিনাজপুরের বাসিন্দা ছাইফুল ইসলাম জানান, একটি তথ্যের জন্য হেল্প ডেস্কে গেলে, কর্তব্যরত এক ব্যক্তি তাঁকে প্রটোকল কর্মীর কাছে পাঠান। এ ছাড়া বিভিন্ন পোশাক পরা একদল কর্মী যাত্রীর নাম ধরে ডাকতে থাকেন। এসব প্রটোকল কর্মীর চাপে পড়ে অনেক যাত্রী টাকা দিয়ে সেবা নিতে বাধ্য হন।
জানতে চাইলে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ সমকালকে জানান, যাত্রীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা তাদের হেল্প ডেস্কের কর্মীরা তৎপর। একসঙ্গে ১০-১২টি ফ্লাইট অবতরণ করলে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস হলে চাপ বাড়ে। কোন ফ্লাইটের জন্য কোন কনভেয়ার বেল্ট, তা মনিটরে দেখানো হয়। অনেকে এটি বুঝতে না পেরে হেল্প ডেস্কে যান। সেখানকার কর্মীদের ভুল নির্দেশনার কারণে হয়তো কেউ প্রটোকল কর্মী কিংবা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সেবা নিচ্ছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হেল্প ডেস্কের সেবার মান নিয়ে আমরা কোনো জরিপ করিনি। কোনো প্রতিষ্ঠান করেছে কিনা জানা নেই। এখন পর্যন্ত কোনো যাত্রী লিখিত অভিযোগ করেননি। সেবা পেয়ে যাত্রীরা সন্তুষ্ট বলেই তো অভিযোগ করেন না।




















