হবিগঞ্জে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাইকিং

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০১/২০২৬ ০৯:১৮:০৮ PM

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রকাশ্যে হাটবাজারে মাইকিং

Share
68

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় এক যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রকাশ্যে হাটবাজারে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো এবং তথাকথিত বিচারের আল্টিমেটাম দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে। বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লার বাসিন্দা আজিজুর রহমান নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মাইকিং প্রচারণা চালানো হয়। মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, আগামী ৯ জানুয়ারি যাত্রাপাশা মোকাম হাটি মসজিদে তার বিরুদ্ধে ‘বিচার’ অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বানিয়াচং বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে এ মাইকিং প্রচারণা নজরে আসে বাজারের ব্যবসায়ী ও আগত হাজারো মানুষের। এমন ঘটনায় বাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় অনেক বাসিন্দা জানান, বানিয়াচং উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা তারা এই প্রথম প্রত্যক্ষ করছেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রচারণাকারী মো. মুনাফ মিয়া বলেন, আপাতত তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না। তিনি জানান, “৯ জানুয়ারি বিচারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিচারক সবাইকে জানাবেন, কী অপরাধের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাকে শুধু এভাবে মাইকিং করতে বলা হয়েছে।”

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বপন মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, “কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। এভাবে প্রকাশ্যে মাইকিং করে একজন মানুষকে অপমান করা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনবিরোধী।”

একজন স্থানীয় আলেম বলেন, “ইসলামে কোনো মুসলমানকে প্রকাশ্যে মসজিদে প্রবেশ বা নামাজ আদায় থেকে নিষেধ করার বিধান নেই। এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।”

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল বলেন, “প্রকাশ্যে মাইকিংয়ের মাধ্যমে কাউকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বা বিচারের আল্টিমেটাম দেওয়া স্পষ্টভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদালতেই হতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “বিচার করবে আদালত, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নয়। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে হাটবাজার, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০১-০৬ ২১:১৮:০৮