সিলেটে ফুরির বাড়ি ইছতারি বিলাসিতা না বোঝা

  • প্রকাশের সময় : ০৮/০৪/২০২৩ ০৫:০৭:৪৪ AM

Share
66

সিলেটে আবহমান কাল থেকে ফুরির (মেয়ে) বাড়ি ইছতারি (ইফতারি) দেয়ার প্রথা চালু রয়েছে। তবে কত সাল থেকে এ প্রথা শুরু হয়েছে সেটা জানা যায়নি। অনুমান করা যায় যুগযুগ ধরে ইছতারি দেয়ার রীতি চালু রয়েছে। লোক দেখানো এমন প্রথা বড়লোকের বিলাসিতা, গরীবের বোঝা বলে আখ্যায়িত করেন বিবেকবান সুশীল সমাজ। রমজানের প্রথমদিনে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে টিফিন ভরে ইফতারি পাঠানো হয়। দশ রমজানে কিছুটা ঘটা করে এবং পনেরো রমজানের পর থেকে ডাক ঢোল পিটিয়ে ঠেলাগাড়ি, পিকআপ বা ট্রাক ভরে ইফতারি দেয়া হয়। সাথে অনেকে সেই পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের জামাকাপড় দেন। প্রথমদিনের ইফতার মেয়ের শ্বশুর বাড়ির পরিবার, দশ রমজানের ইফতার নিকটজনদের নিয়ে খাওয়া হয়।

আর পনেরো রমজানের পরে দেয়া ইফতার পাড়া প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝে বণ্টন করে খাওয়ার রীতি প্রচলন রয়েছে। সিলেটের প্রচীন ঐতিহ্য মনে করে ইফতারি দেয়া বড়লোকের একরকম বিলাসিতা সমাজনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর থেকে ফল মৌসুমে আম কাঁঠলি (ফল, মিষ্টান্ন) ও রমজানে ইফতারি দেয়া সমাজে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাপিয়ে দেয়া আম কাঁঠলি, ইফতারি প্রথা গরীবের জন্য কষ্টসাধ্য বা বোঝা। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক আত্মীয়স্বজনের সহযোগীতায় কেউ বা ধারদেনা করে লক্ষলক্ষ টাকা খরচ করে মেয়ে বিয়ে দেন। সেই ধারদেনার টাকা পরিশোধ না হতে আবার আম কাঁঠলি, ইফতারি দিতে সমাজ বাধ্য করে। মেয়ের হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখতে হাজারো দুঃখকষ্টের মধ্যে একজন বাবা বা ভাই অনাহারে অর্ধাহারে থেকে ইফতারি দেন। আর যে পিতা অর্থকষ্টের কারণে মেয়ের বাড়ি আম কাঁঠলি বা ইফতারি দিতে ব্যর্থ হন সে মেয়েকে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের তিক্ত কথা সহ্য করে যেতে হয়। এমনকি পাড়াপড়শির খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মন্দ কথা মেয়েকে নীরবে হজম করতে হয়। এদিকে বিয়েতে যিনি উকিল পিতা হন তার পক্ষ থেকেও প্রতি রমজানে একবার ইফতারি দেয়া হয়। বিগত কয়েক বছর থেকে ইফতারি দেয়ায় পরিবর্তন এসেছে। অবস্থা সম্পন্ন ব্যক্তিদের অনেকে বোন-ভাগ্নিকে ইফতারি দেয়ার পরিবর্তে ইফতার তৈরির যাবতীয় কিছু কিনে গাড়ি দিয়ে পাঠিয়ে দেন। কেউ আবার নগদ অর্থ মেয়ের শ্বশুর বাড়ির পরিবারের মুরব্বির কাছে পৌছে দেন।

সিলেট বিভাগের বাহিরে বিলাসিতা ও লোক দেখানো এমন প্রথার প্রচলন তেমন একটা নেই। বিত্তশালীদের বিলাসিতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কন্যা দায়গ্রস্ত গরিব পিতার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার পথে। অমানবিক এমন প্রথার বিরোধী সুশীল সমাজের বিবেকবান বহু পরিবার। বর্তমান সমাজের তরুণ প্রজন্মও প্রচলিত চাপিয়ে দেয়া আম কাঁঠলি ও ইফতারি প্রথা থেকে বেড়িয়ে আসছে। সুশীল সমাজের অনেকে মনে করেণ, অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের রমহত মাগফিরাত নাজাতের মাস রমজানে ইফতার দেয়াটা বিত্তের প্রদর্শনী ছাড়া আর কিছু নয়। বড়লোকের ইফতারি প্রথার উৎসাহে গবিরে ওপর জুলুম বাড়ছে। মেয়েকে ইফতারি ও আম কাঁঠলি দেয়ার দুশ্চিন্তায় পড়ে এক একটা পরিবার হাসি আনন্দকে বিসর্জন দিচ্ছে। ঋণগ্রস্ত হয়ে বোবা কান্নার অশ্রু ঝড়ছে অনেক বাবা-মা'র। রমজানের মূল উদ্দেশ্য মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা থাকলে মেয়ের হাতে রান্না করা খাবার দুই পরিবার একসাথে মিলেমিশে খাওয়ার সংস্কৃতি চালু হলে সমাজে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করবে। বাড়বে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা, তৈরি হবে সমাজে সম্প্রীতির মেলবন্ধন।

এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী বক্তা মাওলানা মুফতি মাহবুব আহমদ নাঈমী সিলেটপ্রেস কে বলেন, ইসলামে রোজাদারকে ইফতার করানোর নির্দেশনা আছে। ঋণ করে গাড়ি ভরে ইফতারি দেয়ার কোনো নিয়ম ইসলামে নেই। মানুষের কষ্ট হয় এমন কোনো প্রচলনকে ইসলাম সমর্থন করেনা।


সিলেট প্রেস / ০৮/০৪/২০২৩ এফ কে


কমেন্ট বক্স
জাবেদ এমরান

জাবেদ এমরান

প্রকাশ: ২০২৩-০৪-০৮ ০৫:০৭:৪৪