সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের পাশ দিয়ে যাওয়া গ্রামীণ সড়কের জামগড়া খালের বাঁধ ভেঙে ইয়ারন বিলে পানি প্রবেশ করছে। এতে হাওরে থাকা পাকা ও আধাপাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর রাতে এই বাঁধটি ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ শুরু হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইকরাছইর হাওরের এরনবিল অংশে ৫০ হেক্টর এবং নন-হাওরে ৬৪ হেক্টরসহ মোট ১১৪ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এরনবিল অংশের প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। বাকী ১০ হেক্টর জমি পানিতে আক্রান্ত হলেও সেগুলোও কেটে ঘরে আনার জন্য কৃষকরা হাওরে কাজ করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই হাওরে এখনও প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে। এমন সময় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ায় ফসল হারানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভাঙা বাঁধ দ্রুত মেরামতের মতো কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করলেও চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
হামিদপুর গ্রামের কৃষক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ইয়ারন বিলে থাকা ৮ কাটা জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এখন সে আধাপাকা ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছি। পানি মেশিনের জমিতে (উঁচু জমি) ঢুকে পড়লে আরও ২২ কাটা জমির ধান ডুবে যাবে। আমরা খুবই বেকায়দায় আছি।
জয়পুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, একদিকে বৃষ্টির পানি, অন্যদিকে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকছে। আমার প্রায় ২২ কাটা জমির ধান এখনও কাটা হয়নি। এগুলো পানির নিচে চলে গেলে আমাদের আর কিছুই থাকবে না।
এ বিষয়ে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা আকমল হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলে মনাই নদীতে পানি বাড়ায় চাপ সৃষ্টি হয়ে খালের বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে হাওরে পানি ঢুকছে। ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকায় এরনবিল অংশের ১০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো বাঁধ নয়, বরং একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোণার দুর্গাপুর এলাকা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপেই সড়কটি ভেঙে গেছে। তিনি জানান, এ হাওরের বেশির ভাগ জমির ধান কাটা শেষ হলেও ৫ থেকে ১০ হেক্টর জমির ধান ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, সবাই সচেতন থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করলে বন্যা হওয়ার আগেই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবে।
আসরাফ উদ্দিন হিল্লোল, মধ্যনগর




















