সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (প্যানেল-১) আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধ করার প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ও নাগরিকদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তাই ইউনিয়ন পরিষদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং স্থানীয় সরকারের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে ওই পরিষদের ৮ জন ইউপি সদস্য একদিকে যেমন অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন অন্যদিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাও কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করেছেন।
এরই মধ্যে দেড় মাস সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার বিভাগ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ও তাকে স্বপদে বহাল রাখায় জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী দুই ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ও সুমন চন্দ্র বর্মন বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেও এখন পর্যন্ত আব্দুছ ছাত্তার কীভাবে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে বাহাল আছেন বুঝতে পারছি না। দ্রুত তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইউনিয়নের কয়েকজন বিএনপি নেতা জানান, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আগে আব্দুছ ছাত্তারকে কখনো বিএনপি করতে দেখা যায় নি। হঠাৎ বিএনপি সেজে দলের নাম ভাঙিয়ে ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এখনও টিকে আছে।
২০২৪ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটুর অবর্তমানে যথাক্রমে আব্দুছ ছাত্তার, হাবিবুর রহমান ও কাকলী তালুকদারকে দিয়ে প্যানেল গঠন করা হয়। পরে আব্দুছ ছাত্তারকে প্যানেল চেয়ারম্যান (প্যানেল-১) হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব প্রদান করে প্রশাসন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়,রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারনে ওই পরিষদের আরও দুইজন ইউপি সদস্য বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আব্দুছ ছাত্তারের সাথে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানের দ্বন্দ্ব হয়। ওই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ওইদিন রাতেই প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তারের একটি আপত্তিকর (নারী সংক্রান্ত) ভিডিও সামাজিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়। আর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সাধারণ জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফলে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তারকে অপসারণের দাবি উঠে।
পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি আব্দুছ ছাত্তারকে অনাস্থা দিয়ে প্যানেল-২ হাবিবুর রহমানকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব প্রদানের জন্য ৮ জন ইউপি সদস্য জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পরে তারা ইউএনওর কাছে সভার কার্যবিবরণী পেশ করেন। ওই সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য সাবেক ইউএনও উজ্জ্বল রায় উপজেলা (ধর্মপাশা/মধ্যনগর) সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গত ১১ মার্চ ইউএনওর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
সেখানে তদন্ত কর্মকর্তা প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। একই দিনে ওই ৮জন ইউপি সদস্য আবারও জরুরি সভায় আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। এর পরের দিন সাবেক ইউএনও উজ্জ্বল রায় প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করেন।
জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মার্চ সাবেক জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তারের কর্মকাণ্ডকে ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এ ধারা ৩৪(৪) (খ) অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে অপসারণ যোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সচিবালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগকে সুপারিশ করে চিঠি দিয়েছেন।
অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুছ ছাত্তার নিজেকে সদর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য হিসেবে দাবি করে বলেন, আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তা জানা নেই। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ঢাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে শেষ করে দিয়েছেন এবং জেলা প্রশাসকের (সাবেক) সাথে কথা বলেছেন।
মধ্যনগর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় ঘোষ জানান এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ যদি অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করে তাহলে ওই পদটি শূন্য হবে এবং প্যানেল-২ নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পাবে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















