সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বরেণ্য আলেম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (১৩ জুন) রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে সিলেট নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।
বরেণ্য এই আলেমের মৃত্যুর খবরে কানাইঘাট, জকিগঞ্জসহ সমগ্র সিলেট অঞ্চলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্টজনেরা তাঁর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুমের জানাজার নামাজ আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৪টায় কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী তালবাড়ী জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল হক চৌধুরী ছিলেন অঞ্চলের প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।
পারিবারিক ধর্মীয় পরিবেশেই তাঁর শিক্ষার হাতেখড়ি। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে স্নাতক (বিএ) ডিগ্রি অর্জন করেন।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তাঁর সংসদীয় মেয়াদে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ এলাকার শিক্ষা, যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে তিনি অভূতপূর্ব ও স্মরণীয় অবদান রাখেন।
রাজনীতির পাশাপাশি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে সিলেট বিভাগে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল। সিলেটে আধুনিক ইসলামী শিক্ষার প্রসারে তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি মিরাবাজার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল, পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা, আল-আমীন জামেয়া উচ্চ বিদ্যালয়, জালালাবাদ ইন্টারন্যাশনাল আলিম মাদ্রাসা এবং জালালাবাদ কলেজসহ বহু খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও নীতিনির্ধারক ছিলেন। এছাড়া নিজ গ্রাম তালবাড়ীতেও তিনি ব্যক্তিগত জমি দান করে একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
একজন উচ্চমানের আলেম, মুফাসসিরে কুরআন ও মিষ্টভাষী বক্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে তাঁর স্থান ছিল অত্যন্ত উঁচুতে।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেটের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, জাতি আজ একজন সৎ, যোগ্য এবং দেশপ্রেমিক অভিভাবককে হারালো।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















