টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বহুল বিতর্কিত এবং নানামুখী ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমকে সিলেটে বদলি করা হয়েছে। সম্প্রতি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়। রোববার (৫ জুলাই) এই বদলির খবরটি সিলেটে জানাজানি হলে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে তীব্র আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলে কর্মরত থাকাকালীন সহকারী পরিচালক আবজাউল আলমের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, দালা চক্রের সিন্ডিকেট প্রশ্রয় দেওয়া এবং সরাসরি ঘুষ বাণিজ্যের অসংখ্য অভিযোগ ওঠে। সাধারণ পাসপোর্ট প্রত্যাশীদের মাসের পর মাস ফাইল আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে কাজ করে দেওয়ার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে একাধিকবার সমালোচনার ঝড় ওঠে।
টাঙ্গাইলের এই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে সিলেটে বদলি করায় সিলেটের স্থানীয় মহলে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসীবহুল সিলেট অঞ্চলের মানুষ এমনিতেই পাসপোর্ট নিয়ে নানামুখী ভোগান্তির শিকার হন। সেখানে এমন একজন অভিযুক্ত কর্মকর্তার আগমন সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেবে কি না—তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেটের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "সিলেট পাসপোর্ট অফিসে এমনিতেই দালালের উপদ্রব ও নানা জটিলতা থাকে। এখন যদি অন্য জেলার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের এখানে 'ডাম্পিং স্টেশন' হিসেবে বদলি করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও চরমে পৌঁছাবে।"
বদলির এই আদেশের পর সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে কোনো ধরণের প্রশাসনিক রদবদল বা কড়াকড়ি আসে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















