বড় প্রকল্পকে ভাগ করে আরএফকিউর অভিযোগ; স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

জকিগঞ্জে টেন্ডার ছাড়াই কোটি টাকার উন্নয়নকাজ? কোটেশন পদ্ধতি নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০৭/২০২৬ ০৪:১২:৪১ PM

Share
8

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান না করে কোটেশন (আরএফকিউ) পদ্ধতিতে লাখ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি বিভিন্ন ভবন সংস্কারের একাধিক প্রকল্প পৃথকভাবে ভাগ করে কোটেশন পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুরমা-৪ সেন্টার কোয়ার্টার, সুরমা-৩ সেকেন্ডারি কোয়ার্টার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের দুটি অংশ, মেঘনা ও পদ্মা কোয়ার্টারের একাধিক অংশ এবং উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনের সংস্কারকাজ। কয়েকটি প্রকল্পের বরাদ্দ ৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকার কাছাকাছি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

একই বিশেষ বরাদ্দ থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রাস্তা উন্নয়ন, ইট সলিং, সিসি ও আরসিসি ঢালাই, কালভার্ট সংস্কার, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সেফটি ট্যাংক মেরামত এবং আদালত প্রাঙ্গণে সেবাপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার নির্মাণ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্থবছরের শেষ সময়ে বরাদ্দের অর্থ দ্রুত ব্যয়ের চাপকে কেন্দ্র করে প্রকল্পগুলো অনুমোদন ও বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক তাড়াহুড়ো করা হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি বিধিমালায় নির্দিষ্ট সীমার ছোট বা জরুরি কাজের ক্ষেত্রে কোটেশন পদ্ধতির সুযোগ রয়েছে। তবে বড় প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে একই পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়ন করা হলে তা সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ কারণেই পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।

সচেতন নাগরিকরা প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ, ঠিকাদার নির্বাচন, ব্যয়ের হিসাব এবং কাজের অগ্রগতির তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, “সদ্যবিদায়ী ইউএনও মো. মাসুদুর রহমান এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করে গেছেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি সব কার্যক্রম বিধি মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে উন্মুক্ত দরপত্রের পরিবর্তে কেন কোটেশন পদ্ধতি বেছে নেওয়া হলো? প্রকল্পগুলো কি প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, নাকি অর্থবছরের শেষ মুহূর্তে বরাদ্দ ব্যয়ের তাড়াহুড়োতেই এমন সিদ্ধান্ত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পরই।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৭ ১৬:১২:৪১