সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি ড্রেজার জব্দের পর মামলা না করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যে দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায় যাদুকাটা নদীতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত তিনটি বড় ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জব্দকৃত ড্রেজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়। সেখানে ভবিষ্যতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করার অঙ্গীকার করা হয়। পরে ড্রেজারগুলো তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী ও পরিবেশ ধ্বংসের মতো ঘটনায় শুধু মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলে অপরাধীরা আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাদের দাবি, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ সকিনা আক্তার জানান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় ঘটনাস্থলে সরাসরি অপরাধীদের পাওয়া যায়নি। পরে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করতে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তাদের নজরদারিতে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় ড্রেজার জব্দ করা হলেও মামলা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, অভিযান ও জব্দ কার্যক্রম উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করেছে। এ বিষয়ে থানাকে কোনো লিখিত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তাই পুলিশের ওপর দায় দেওয়ার সুযোগ নেই।
আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন পরিবেশ ও সরকারি সম্পদের ক্ষতির সঙ্গে জড়িত। এ ধরনের ঘটনায় জব্দকৃত সরঞ্জাম ফেরত দেওয়ার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার আলোকে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহলের দাবি, যাদুকাটা নদী রক্ষায় অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















