রমজান ও পবিত্র ঈদ উল ফিতরকে কেন্দ্র কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে। তারা আসল পণ্যের ভীড়ে নকল পণ্য দিয়ে ক্রেতাদের সাথে করছেন প্রতারণা।দিন যত ঘনিয়ে আসছে সরব হচ্ছে ঈদের বাজার।আর এসবের সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু কিছু ব্যবসায়ী।নকল পণ্য ও কাপড়ের দোকানগুলোতে ‘প্রাইজ টেম্পারিং’সহ নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এসব ঠেকাতে এবার সিলেটে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।
জানা যায়, রমজান ও আসন্ন ঈদকে ঘিরে সিলেট নগরের বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদনহীন পণ্য ও ভেজাল প্রসাধনী বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়।চার দিনে সিলেট নগরের পৃথক চারটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ১ এপ্রিল (শনিবার) দুপুরে নগরীর কুমারপাড়ায় এক কাপড়ের দোকানে বিদেশি পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শ্যামল পুরকায়স্থ।
অভিযানকালে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী ‘মূল্য ছাড়’ অফার দেন। কিন্তু আমাদের কাছে অভিযোগ আছে- সঠিক মূল্য থেকে বাড়িয়ে অতিরিক্ত দাম নির্ধারণ করে এরপর ৩০ অথবা ৫০ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারণা করেন কিছু ব্যবসায়ী। এছাড়াও বিদেশি পণ্যের ইচ্ছেমতো দাম রাখেন তারা। এসব ঠেকাতে আমরা মাঠে কাজ করছি। ঈদের আগ পর্যন্ত এমন অভিযান আমরা অব্যাহত রাখবো।
৩ এপ্রিল (সোমবার) সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ শ্যামলী মার্কেটে অভিযান চালিয়ে প্রতারণা ও ভেজাল পণ্য বিক্রির দায়ে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সিলেট কার্যালয় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিকার সিলেটের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) শ্যামল পুরকায়স্থ।
অভিযানকালে শ্যামলী মার্কেটের পায়েল ইমিটেশন নামক দোকানকে ১০ হাজার, শিফাত ইমিটেশন জুয়েলারিকে ৮ হাজার, মুসকানকে ১০ হাজার ও শিউলী ককসমেটিকস সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঢাকার চকবাজারে তৈরি পণ্যকে বিদেশি বলে বিক্রি, ভেজাল ও নকল পণ্য এবং বিএসটিআই নিষিদ্ধপণ্য বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এই অপরাধে তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
একইভাবে ৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) নগরীর লালাদিঘিরপাড় নিউ মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আমদানিকারকের হলোগ্রামযুক্ত স্টিকার না থাকা ও নকলপণ্য বিক্রির দায়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জরিমানাকৃত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লালদিঘিরপাড় নিউ মার্কেটের নিউ লক্ষী ভান্ডারকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স মেহেদী ষ্টোরকে ১০ হাজার টাকা ও সুদর্শন এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভোক্তা অধিকার সিলেটের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) শ্যামল পুরকায়স্থ।
এছাড়াও এসময় মহাজনপট্টিতে কাপড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এই দুই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ মিয়া,কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সদস্য তামান্না আক্তার ও ধীমান ঘোষ।
অভিযানে র্যাব-৯এর একটি অভিযানিক দলও এসময় উপস্থিত ছিল।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) নগরীর শিবগঞ্জে অবস্থিত স্বপ্ন সুপার সপকে ১৫ হাজার টাকা ও রাজমহল সুইটস এন্ড ফায়ার ফুডসের ইফতার সামগ্রী তৈরির স্থান অপরিচ্ছন্ন, নোংরা এবং তেলাপোকা থাকার কারণে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ওইদিন দুপুরে জাতীয় ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিলেট কার্যালয়ের টিম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালন করে এ অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
এব্যাপারে ভোক্তা অধিকারের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রো) শ্যামল পুরকায়স্ত বলেন, রমজান ও আসন্ন ঈদ ঘিরে সিলেট নগরের বিভিন্ন জায়গায় অনুমোদনহীন ও ভেজাল প্রসাধনী বিক্রির চেষ্টা চলছে।নকল পণ্য বিক্রির ফলে মানুষের চামড়ায় নানা ধরনের রোগবালাই সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থে এ সব পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলবে।




















