১৭ পরগনার ইতিহাস

  • প্রকাশের সময় : ২৩/০৮/২০২৪ ০৬:০৫:৪১ AM

ছবি-সংগৃহীত

Share
289

বাংলাদেশের সিলেট জেলার প্রাচীন জৈন্তা রাজ্য বা জৈন্তার পরগণা সমূহের জন মানুষের জীবনযাত্রার স্বকীয়তা আপন বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল। জৈন্তা বলতে এখনো সিলেট জেলার জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জের কিছু অংশ, কানাইঘাট, মেঘালয়ের কিয়দংশ বুঝায়।

জৈন্তা এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি শ্রীহট্ট তথা সিলেটের অন্যান্য এলাকা থেকে কিছুটা হলেও আলাদা। এখানকার পাহাড়ী নদী, ঝর্ণা সমূহ, টিলা, হাওর, জনপদ, উদারতা, পাথর, বালির উৎস, অরণ্য, দিগন্তবিস্তৃত ফসলের মাঠ ইত্যাদি প্রকৃতির এক অপূর্ব লীলা নিকেতন। আবার জৈন্তার বিকাশমান পর্যটন স্থান সমূহ অভূতপূর্ব। বিনোদন পিয়াসী অসংখ্য পর্যটক জৈন্তায় এসে প্রাণ জুড়ান। জৈন্তা রাজ্যের শাসন ব্যবস্থা তথা বিচার ব্যবস্থা একটু ভিন্ন প্রকৃতির ছিল। জৈন্তার সামন্ত রাজারা খাসিয়া

ও ব্রাহ্মণ ধারার ছিলেন। তাদের অনুগামীরাই বর্তমান জৈন্তায় বিভিন্ন পরগণার মানুষের মননে, চিন্তায়, আচার আচরণে ও সংস্কৃতিতে, বিশেষ করে বয়স্ক মুরুব্বিদের চিন্তার মর্মমূলে নিহিত রয়েছে। তাই জৈন্তাবাসীরা এখনো পর্ব করে নিজেদের জৈন্তারাজের উত্তরাধিকার বলে দাবী করেন। আর তারই ফলশ্রুতিতে জৈন্তা ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটি বহু পূর্বে গঠন করেছেন। আর জৈন্তাবাসীর দুঃখ দরদ ও গ্রাম্য সালিশ সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন। তবে এই সালিশী ব্যবস্থা কোনক্রমেই দেশের বিদ্যমান আইন বা শাসন ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করে না বরং সরকারকে সহায়তা প্রদান করে থাকে।

তবে এই 'জৈন্তা ১৭ পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটি'রও ইতিহাস রয়েছে। ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মো: আইয়ুব খান 'পঞ্চায়েত প্রথা বিলুপ্ত করেন। আর তখন ঐ সময়ের সতেরো পরগণার পঞ্চায়েতরা লক্ষ্য করলেন বিচার ব্যবস্থা একটা বড় ধাক্কা খেয়েছে। তখন ১৭ পরগণার পঞ্চায়েতরা '১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় পরিষদ কমিটি' গঠন করেন। তখন থেকে অদ্যবধি এই সালিশ পরিষদ কার্যকর রয়েছে।

স্মরণ করা যায় ১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় পরিষদের প্রথম সভাপতি ছিলেন মরহুম আবুল হাসনাত চৌধুরী। দ্বিতীয় সভাপতি হলেন মরহুম সিরাজ উদ্দিন। আর তৃতীয় ও বর্তমান সভাপতি জৈন্তাপুরবাসী বিশিষ্ট দেশসেবক জনাব আবু জাফর আব্দুল মওলা চৌধুরী।

আমি আশাকরি এই '১৭ পরগণা সালিশ সমন্বয় পরিষদ' অঞ্চলবাসীর কল্যাণে ও গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মানুষের সেবা করে যাবে, যা পরোক্ষভাবে দেশসেবার মহান কাজই নীরবে করে যাচ্ছে।

লেখক: (অধ্যাপক) মনোজ কুমার সেন, ঠিকানা: গ্রাম-নিজপাট, ডাকঘর ও উপজেলা: জৈন্তাপুর, জেলা: সিলেট। মোবাইল 01715348362, ইমেইল <[email protected]> তারিখ: ১৭ আগস্ট ২০২৪ খৃষ্টাব্দ।


সিলেট প্রেস / ২৩ আগস্ট ২০২৪/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৪-০৮-২৩ ০৬:০৫:৪১