'কাদিনয়ানীদের ঈমানবিধ্বংসী অপতৎপরতা বন্ধ ও রাষ্ট্রিয়ভাবে তাদের অমুসলিম ঘোষণার' দাবিতে সিলেটে সমাবেশ করেছে ‘উলামা পরিষদ বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন।
শনিবার দুপুরে নগরের রেজিস্ট্রারি মাঠে ‘বিভাগীয় খমতে নবুয়ত মহাসমাবেশ’ নামে এই কর্মসূচীতে লক্ষাধিক লোক অংশ নেন।
এতে ধর্মীয় নেতাদের পাশপাশি সমাবেশের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হাসানও এতে বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে নিজের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, হযরত মোহাম্মদ (স.) ইসলামের শেষ নবী। এরপরে যারা নবী দাবি করে তারা ইসলামের শত্রু। আমি আজকের এই সমাবেশের উলামা মাশায়েখদের দাবির প্রতি একাত্মতা টোষণ করছি।
বেলা ১২টা থেকে রেজিস্ট্রারি মাঠে এই সমাবেশ শুরু হয়। তারআগে সকাল থেকে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাস ও ট্রাক যোগে সমাবেশে লোকজন আসতে থাকেন। নগর থেকে মিছিল নিয়েও আসেন অনেকে। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের বেশিরভাগ মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এই সমাবেশে যোগ দেন।
দুপুরের পরপর রেজিস্ট্রারি মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়েন জনতা। এতে আশপাশের কয়েকটি সড়কের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে পড়ে। এসময় উপস্থিত জনতা স্লোগান উঠে- ‘নবীর পরে নবী নাই- সংসদে আইন চাই’, 'কাদিয়ানীদের কাফের ঘোষণা করতে হবে'- এমন শ্লোগান দিতে থাকেন। অনেকে এসব দাবির সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়েও হাজির হন সমাবেশে।
শনিবার (২৭ মে) সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্ট্রারি মাঠে উলামা পরিষদ বাংলাদেশ এর ডাকে বিভাগীয় খতমে নবুওয়ত মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা শায়খ জিয়া উদ্দিন, আল্লামা আলিম উদ্দিন দুর্লভপুরী ও আল্লামা রশিদুর রহমান ফারুক শায়খে বরুণা।
মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আহমদ সগীর, মাওলানা রশিদ আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন-শায়খুল হাদিস নূরুল ইসলাম খান সুনামগঞ্জী, মুফাসসিরে কুরআন মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা মুহিউল ইসলাম বুরহান, শায়খ আব্দুল বছির সুনামগঞ্জী, শায়খুল হাদীস মুফতি মুজিবুর রহমান, মাওলানা মজদুদ্দিন আহমদ, শায়খুল হাদীস আতাউর রহমান কোম্পানীগঞ্জী, মাওলানা মুশতাক আহমদ খান, মাওলানা হিলাল আহমদ, মাওলানা ইউসুফ খাদিমানী, মাওলানা আবুল খয়ের বিথঙ্গলী, মাওলানা জুনাইদ আহমদ ইবনে গাছবাড়ী, মাওলানা জুনায়েদ আহমদ কিয়ামপুরী, ফুলতলী রহ. এর দৌহিত্র মাওলানা রেজওয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা নূর আহমদ কাসেমী, মাওলানা খলিলুর রহমান, মাওলানা গোলাম আম্বিয়া কয়েছ প্রমুখ।
দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই সমাবেশের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মুহসিন আহমদ। বিকাল ৫টায় মুনাজাতের মধ্য দিয়ে মহাসমাবেশ শেষ হয়।
প্রসঙ্গত, আহমদিয়া মুসলিম জামাতের অনুসারীদের সুন্নি মুসলিমদের অনেকে 'অমুসলিম' বলে মনে করেন। আহমদিয়াদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিও দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছেন তারা।
ভারতের পাঞ্জাবের কাদিয়ান থেকে এই দর্শনের জন্ম বলে অনেকে এই সম্প্রদায়ের লোকজনকে কাদিয়ানী বলে থাকেন। এই সম্প্রদায়কে নিয়ে বিশ্বের অনেক দেশেই বিরোধ রয়েছে। আহমদিয়া মুসলিম জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মির্জা গোলাম আহমদ নিজেকে ইসলামের একজন নবী ঈসা এবং ইমাম মাহদি হিসাবে আবির্ভূত হওয়ার দাবি থেকে এই বিরোধের সূত্রপাত। পাকিস্তানে আহমদিয়াদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক




















