‘সুস্থ মানুষও রোগী হয়ে যায়’: হবিগঞ্জ-সুজাতপুর সড়কে চরম দুর্ভোগ, ক্ষুব্ধ লাখো মানুষ

  • প্রকাশের সময় : ০৬/০৭/২০২৬ ০৬:০১:৩৬ AM

Share
3

​দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাব। পুরো সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় খানাখন্দ। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও ভেঙে পড়েছে সড়কের এজিং। এটি কোনো পরিত্যক্ত পথ নয়, বরং বিস্তীর্ণ দক্ষিণ বানিয়াচংয়ের লক্ষাধিক মানুষের জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ হবিগঞ্জ-ইকরাম-সুজাতপুর সড়ক। প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি এখন ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী, মুরাদপুর ও পৈলারকান্দি ইউনিয়ন ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের প্রায় অনুপযোগী। বর্ষা মৌসুমে গর্তগুলোতে কাদা-পানি জমে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।

​স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ​"আমাদের সড়কের এমন অবস্থা প্রায় ১০-১৫ বছর ধরে। অনেক কষ্ট করে জেলা সদরে যাওয়া লাগে। রাস্তার অবস্থা এমন যে, একজন সুস্থ মানুষ এই পথে গেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে, আর রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। রাতের বেলা তো কোনো গাড়িই চলতে চায় না।"

​সড়কটির বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের মূল্যবান যন্ত্রাংশ। স্থানীয় বাসিন্দা অলম মিয়া জানান, "এমন একটা দিন নাই, যেদিন দুই-তিনটা দুর্ঘটনা ঘটে না। স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। কয়েকদিন আগেও একটি ইজিবাইক উল্টে এক নারী নিহত হয়েছেন।"

​দুর্ঘটনার ঝুঁকির পাশাপাশি যাতায়াত খরচও বেড়েছে দ্বিগুণ। যেখানে স্বাভাবিক ভাড়া ৪০ টাকা, সেখানে ভাঙা রাস্তার অজুহাতে চালকরা আদায় করছেন ৮০ টাকা। বাধ্য হয়েই সাধারণ মানুষকে এই বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।

​রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ইকরাম বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরহাম হোসেন বলেন, "হবিগঞ্জ থেকে মালামাল নিয়ে আসতে গিয়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। মালামাল নষ্ট হয়ে আমাদের ব্যাপক লোকসান হচ্ছে। সারাদেশে এমন খারাপ রাস্তা আর আছে বলে মনে হয় না।"

​যানবাহন চালকদের অবস্থাও শোচনীয়। টমটম চালক শাহেদ মিয়া জানান, "একদিন এক হাজার টাকা রোজগার করলে, পরেরদিন গাড়ির যন্ত্রাংশ মেরামতেই ৫০০ টাকা চলে যায়।" সিএনজি চালক রুবেল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সড়ক সংস্কারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন ও পদযাত্রা করেছি। কিন্তু জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্টদের আমাদের কষ্ট দেখার সময় নেই।"

​সড়কের এই বেহাল দশা নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইতিবাচক আশার কথা শোনান কর্মকর্তারা।

​হবিগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফরিদুল ইসলাম জানান ​২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিওএম মেটেরিয়াল মেইনটেন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চার কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। ​রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু হলেও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কাজটি সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। ​বৃষ্টি কমলেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান পুরোদমে কাজ শুরু করবে।

​এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দাবি, সড়কের একটি অংশের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজও দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্থানীয় ভুক্তভোগী মানুষের দাবি—আশ্বাস নয়, দ্রুততম সময়ে যেন পুরো ১৬ কিলোমিটার সড়কের টেকসই সংস্কার সম্পন্ন করা হয়।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৬ ০৬:০১:৩৬