আগাম প্রচারণায় সরগরম গ্রাম-গঞ্জ

গোলাপগঞ্জে ভোটের হাওয়া! ১১ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হতে মাঠে শতাধিক প্রার্থী

  • প্রকাশের সময় : ০৭/০৭/২০২৬ ০৬:২৬:০১ AM

তফসিলের আগেই ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা; বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা, ৭ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

Share
8

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে এর আগেই সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণায় সরগরম হয়ে উঠেছে গ্রাম-গঞ্জ। এরই মধ্যে শতাধিক প্রার্থী নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে নেমেছেন।

চায়ের আড্ডা, বাজার, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই এখন আলোচনার বিষয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থীর ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময়, গণসংযোগ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন তারা।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দলটির একাধিক নেতা-কর্মী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ১১ ইউনিয়নের মধ্যে ৭টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।

কোন ইউনিয়নে কারা আলোচনায়?

বাঘা ইউনিয়নবাঘা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল কাদের সেলিম, কাদির হোসেন বাবুল, আহাদুর রহমান কামরুল, রাহুল হোসেন সাহেল ও সাবেক চেয়ারম্যান ছাহনা মিয়া।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন মোশাররফ হোসেন শামীম।

সদর ইউনিয়নসদর ইউনিয়নে আলোচনায় রয়েছেন আশফাক আহমদ চৌধুরী, মওদুদ হোসেন চৌধুরী সুমন, আইনুল ইসলাম রেকল, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সাকিল আহমদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন, মুস্তাফিজুর রহমান স্বপন, ময়েজ উদ্দিন, গৌছ উদ্দিন ও সুলতানা মাহমুদ।

ফুলবাড়ী ইউনিয়নএ ইউনিয়নে এমরান আহমদ, নজরুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ মামুন, মো. আব্দুল্লাহ, কাশেম ইসলাম ও আতাউর রহমান আতসের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী আসাদুজ্জামান পাপ্পু।

লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নলক্ষ্মীপাশায় ফখরুল ইসলাম, আব্দুল আলীম তুহিন, মাহতাব উদ্দিন জেবুল, মাহমুদ সাঈদ ও কাদির রিপনের নাম শোনা যাচ্ছে।

জামায়াতের প্রার্থী মাসুদ আহমদ।

ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নজামায়াত বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম আব্দুর রহিমকে প্রার্থী করেছে।

অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেওয়ান নজরুল ইসলাম, শাহজাহান আহমদ ও সাশাদ আহমদের নাম রয়েছে।

ভাদেশ্বর ইউনিয়নবর্তমান চেয়ারম্যান শামীম আহমদ, মহিউজ্জামান লাভলু, আনিসুজ্জামান পাপ্পু ও সাহেদ আহমদের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

বুধবারীবাজার ইউনিয়নবর্তমান চেয়ারম্যান হেলাল আহমদের পাশাপাশি ফখরুল ইসলাম, রেজাউল করিম রেজা ও আব্দুল মুতলিব দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন।

শরীফগঞ্জ ইউনিয়নএ ইউনিয়নে মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন আহমদ, এম কবির উদ্দিন, আব্দুল জলিল সাবু, জয়নাল আবেদীন ও সোহরাব আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী আতিকুর রহমান।পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নরুহেল আহমদ, নুরুল ইসলাম মুন্না ও মাহবুবুল হকের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

জামায়াতের প্রার্থী রাসেল আহমদ। লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নবর্তমান চেয়ারম্যান খলকুর রহমান, অলিউর রহমান শামীম ও মো. কাওছারের নাম আলোচনায় রয়েছে।

জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে হাফিজ নাজমুল হোসাইন বুলবুল, মাওলানা ছাদিকুর রহমান ও হাফিজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান বাবুলের নাম রয়েছে।

বাদেপাশা ইউনিয়নজামায়াতের প্রার্থী জহিদ হোসাইন।

অন্যদিকে বিএনপির খুরশেদ আলম, মহিউদ্দিন রুহেল ও জাহিদুর রহমান দলীয় সমর্থনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তফসিল ঘোষণার আগেই গোলাপগঞ্জের ইউনিয়নগুলোতে যে নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা নির্ধারণ হবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার পর।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৭ ০৬:২৬:০১