গাঁজা বহনের দায়ে সিঙ্গাপুরে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ছয় বছর আগে এক কেজি গাঁজা পরিবহনের কারণে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তাঙ্গারাজু সুপিয়াহ (৪৬)। বুধবার সকালে চাঙ্গি কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর হয়। খবর সিএনএন ও হিন্দুস্তান টাইমস।
সিঙ্গাপুরের সেন্ট্রাল নারকোটিকস ব্যুরোর (সিএনবি) বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালে ১,০১৭.৯ গ্রাম গাঁজা পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন তাঙ্গারাজু। পরে বিচারে ২০১৮ সালে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলেও ২০১৯ সালে সে আপিল খারিজ করে দেন আদালত। পরে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চাওয়া হলে সে আবেদনও ব্যর্থ হয়।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মীরা তার ক্ষমার জন্য জনসমক্ষে আবেদন করেন। কিন্তু তাদের আবেদন উপেক্ষা করে তাঙ্গারাজুর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাঙ্গারাজু সুপিয়াহর বোন লীলাবতী সুপিয়াহ এ খবর নিশ্চিত করে জানান, কারাগার থেকে পরিবারের হাতে তার মৃত্যুসনদ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাঙ্গারাজুর মৃত্যুসনদ হাতে তার পরিবার
মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেন, দুর্বল প্রমাণের ভিত্তিতে তাঙ্গারাজুকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এছাড়া বিচার চলাকালেও তিনি যথাযথ আইনি সুবিধা পাননি। কিন্তু সিঙ্গাপুরের আদালত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাঙ্গারাজু যথাযথ সুবিধা পেয়েছেন। উল্টো আদালত ও বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় মানবাধিকারকর্মীদের সমালোচনা করেন তারা।
বিশ্বের অনেক দেশেই গাঁজা বৈধ হলেও সিঙ্গাপুর এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বরং দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন মাদকবিরোধী আইন চালু রয়েছে। মাদককারবারিদের ঠেকাতে এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে দেশটিতে এই আইন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। গত বছরও দেশটিতে হেরোইন পাচারের অভিযোগে ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মনে করা হয়, কঠিন এই আইনের কারণেই দেশটিতে মাদক সম্পর্কিত অপরাধের হার একেবারে নিম্নপর্যায়ে।




















