প্রেমের টানে লন্ডনে গিয়ে মামলায় ফাঁসলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা

  • প্রকাশের সময় : ০৪/০৫/২০২৩ ০২:৪১:৪৯ AM

Share
77

প্রেমের টানে লন্ডনে গিয়ে মামলার জালে ফেঁসেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। ইফতেখার রহমান নামের ওই কর্মকর্তা বর্তমানে লন্ডন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তিনি সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। বিসিএস ৩৫ ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের ওই কর্মকর্তা একটি ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে বেলজিয়ামে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি লন্ডন যান। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারী লন্ডন পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জানুয়ারি ‘এক্সচেঞ্জ অব এক্সপার্টিজ অন দ্য থিম অব ব্লু ইকোনমি ইন দ্য গালফ অব বেঙ্গল’ শীর্ষক ট্রেনিংয়ে যোগ দিতে বেলজিয়ামে যান ইফতেখার রহমান। ৩ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে এমন তথ্য দেখা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেরেননি।



সূত্র জানায়, লন্ডনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারী ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনেন পুলিশের কাছে। ওই নারী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে লন্ডনে গবেষণার কাজে যুক্ত আছেন।


জানা যায়, ইফতেখার রহমানকে আটকের খবর পেয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তাকে ছাড়ানোর জন্য দেনদরবার করে। ভিয়েনা কনভেনশন অন ডিপ্লোম্যাটিক রিলেশনস ১৯৬১-এর ৩১ ধারা অনুযায়ী যে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বিচারের আওতা থেকে কূটনীতিকরা মুক্ত থাকবেন। তবে ইফতেখার লন্ডনে বাংলাদেশ


দূতাবাসের কর্মকর্তা নন। অবশ্য এর পরও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে দূতাবাসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা তাকে মুক্ত করার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন।


লন্ডনের বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ইফতেখার রহমান বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। একটি সূত্র দাবি করেছে, ইফতেখারকে প্রথমে লন্ডন পুলিশ আটক করেছিল। পরে তাকে নিজ বাসায় পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি লন্ডন ছাড়তে পারবেন না।




ইফতেখার রহমান ৩৫তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। অন্যদিকে ওই নারীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশের লন্ডন হাইকমিশনে মেইল করে প্রশ্ন পাঠায় গণমাধ্যম। তবে গতকাল রাত ১টা পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী ওই নারীর বক্তব্য জানতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করা হলে এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়।


একটি সূত্র জানায়, একান্ত ব্যক্তিগত কারণে ওই জুনিয়র কর্মকর্তা লন্ডনে যান। কী সেই ব্যক্তিগত কারণ এমন প্রশ্নের জবাবে সূত্র জানায়, ছুটি নিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ওই কর্মকর্তা আইনি জটিলতায় পড়েছেন। সে দেশে একটি মামলাও হয়েছে। এই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে লন্ডনে থাকতে হবে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দেশে ফিরলে তাকে হাজিরা দিতে বারবার সে দেশে যেতে হবে। তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবকিছু বিবেচনা করে তাকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছে।



সিলেট প্রেস / ০৪ মে ২০২৩/ এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৩-০৫-০৪ ০২:৪১:৪৯