সিলেটের ছড়ার পার এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম আহমদের বিরুদ্ধে সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির (TCB) পণ্য সাধারণ গ্রাহকদের না দিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি, বেনামে একাধিক ডিলারশিপ লাইসেন্স তৈরি এবং রাতারাতি বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে এই সিন্ডিকেট পরিচালনা করা হয়েছে।
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে উক্ত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাসুম আহমদ বেনামে ও তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের নামে প্রায় ১৬টিরও বেশি টিসিবি লাইসেন্স বাগিয়ে নেন এবং সরকারি চাল ও ভোজ্যতেল সাধারণ কার্ডধারীদের বঞ্চিত করে নিজস্ব কালীঘাটস্থ গোডাউনে মজুত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সাধারণ গ্রাহকদের নিম্নমানের পণ্য ধরিয়ে দিয়ে সরকারি ভালো মানের মালামাল বেশি দামে কালীঘাটের পাইকারি বাজারে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অতি অল্প সময়ের ব্যবধানে এই চক্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন, যার মধ্যে ছড়ার পার এলাকায় পারিবারিক পুরনো বাড়ি ভেঙে বিলাসবহুল রাজকীয় ডুপ্লেক্স ভবন নির্মাণ, ছড়ার পার ব্রিজের পাশে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা দিয়ে বড় কলোনি ক্রয় এবং কালীঘাটের বাণিজ্যিক এলাকায় নিজস্ব কয়েকটি দোকান প্রতিষ্ঠার তথ্য উঠে এসেছে, যার একেকটির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।
এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা জেলা প্রশাসন কর্তৃক আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ত্রাণের ও কম মূল্যের পণ্য নিয়ে যারা এভাবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে মাছুম আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক:



















