মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ কুয়েতে গত তিন মাসে অন্তত সাতজন বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মী তীব্র নির্যাতন ও মানবিক সংকটের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। কুয়েত ও বাংলাদেশের মধ্যে নারী গৃহকর্মী প্রেরণে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না থাকলেও, দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে এসে তারা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ সহযোগিতায় তাদের দেশে পাঠানো হয়।
সর্বশেষ গত ১ জুলাই প্রশাসনের সহায়তায় ফাহাদ আল আহমেদ এলাকার একটি কুয়েতি বাসা থেকে আমেনা খাতুন নামে এক নারী গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ দূতাবাস। তিনি মাত্র পাঁচ মাস আগে কুয়েতে এসেছিলেন এবং সেখানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন।
কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর মো. শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সংকটের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতে অভিবাসনপ্রত্যাশী নারী গৃহকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনগত অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুয়েত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অথবা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়নি। আর এই চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক ‘নারী গৃহকর্মী (খাদ্দামা) ভিসা’ সত্যায়ন করা সম্ভব নয়।
অথচ এক বা একাধিক অসাধু চক্র সম্পূর্ণ অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশ থেকে নারী গৃহকর্মী কুয়েতে প্রেরণের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে কুয়েতে আসার পর অনেক নারী গৃহকর্মী নানা ধরনের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন এবং চরম মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশের কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও অদক্ষ নারী-পুরুষ পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এসব দালালের ফাঁদে পড়ে কুয়েতে আসার পর কাজের পরিবেশ ও বেতনের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না প্রবাসীরা। ফলে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন এবং কেউ কেউ মারাত্মক নির্যাতনের শিকার হয়ে খালি হাতে দেশে ফিরছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কুয়েতে নারী গৃহকর্মী প্রেরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার পূর্বে যেকোনো বাংলাদেশি নারীকে গৃহকর্মী হিসেবে কুয়েতে আগমন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা প্রতিরোধে অসাধু চক্রের প্রলোভন থেকে সাবধান থাকার এবং এই মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে প্রতিরোধ করার জন্য সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা কামনা করেছে কুয়েতস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস।




















