সিলেটের জকিগঞ্জে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে চিৎকার ও কথাকাটাকাটির জেরে চাচাতো ভাইয়ের নির্মম ছুরিকাঘাতে আলম আহমদ (২৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
বুধবার দিবাগত গভীর রাতে জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত আলম আহমদ লামারগ্রামের ওয়ারিছ আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন। এই ঘটনার পরপরই পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ঘাতক চাচাতো ভাই পারভেজ আহমদকে (৩২) গ্রেফতার করেছে। পারভেজ একই গ্রামের মোস্তকিন আলীর ছেলে।
জকিগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে একসঙ্গে বসে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখছিলেন আলম ও পারভেজসহ স্থানীয়রা। খেলা চলাকালীন সময়ে গোল বা কোনো একটি মুহূর্ত নিয়ে চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাই পারভেজ আহমদের সাথে আলম আহমদের তীব্র কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারভেজ চরম উত্তেজিত হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আলমের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
পরে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় আলম আহমদকে উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই জকিগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল ঘাতককে ধরতে বিশেষ অভিযানে নামেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খলাছড়া ইউনিয়নের মাদারখাল গ্রামে পারভেজের নানাবাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় গ্রেফতারকৃত পারভেজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো ছুরিটি (আলামত) উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল খেলা দেখার সময় চিৎকার করাকে কেন্দ্র করে দুই চাচাতো ভাইয়ের মধ্যে আকস্মিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই এই ক্ষোভ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ খবর পেয়েই দ্রুততম সময়ে ঘাতককে গ্রেফতার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল আলামত (ছুরি) উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের লাশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমালীন হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















