প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও সিলেটের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ‘বিছনাকান্দি’ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
ঐতিহ্যবাহী এই পর্যটন স্পটটির বিপুল পরিমাণ বালু ও পাথর অবৈধভাবে লুটপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শাহ আলম স্বপনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘পাথরদস্যু’ হিসেবে পরিচিত হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও দাপটের কারণে নির্বিচারে এই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার ‘হাদারপার বালুমহাল’ সরকারিভাবে ইজারা নেওয়া হয় আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তির নামে। তবে বাস্তবে এই ইজারার মূল নেপথ্য কারিগর ও নিয়ন্ত্রক সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আলম স্বপন।
অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র বালুমহালের ইজারাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পুরো বিছনাকান্দি পর্যটন এলাকা জুড়ে চলছে প্রকাশ্য লুটপাট। ইজারার শর্ত অনুযায়ী কেবল সনাতন পদ্ধতিতে (বারকি নৌকা ও বালতি দিয়ে) বালু তোলার নিয়ম থাকলেও তা তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না। সেখানে পরিবেশবিনাশী ড্রেজার ও বোমা মেশিন বসিয়ে দিন-রাত সমানতালে উত্তোলন করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালু ও পাথর।
আরও জানা গেছে, ইজারাভুক্ত সীমানায় নির্ধারিত দাগগুলোতে প্রকৃতপক্ষে পর্যাপ্ত বালু নেই। উল্টো কাগজে-কলমে দেখানো ওই দাগগুলোর ভেতরেই রয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ এবং ঘনবসতিপূর্ণ ঘরবাড়ি। যান্ত্রিক দানব ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু ও পাথর উত্তোলনের ফলে ওই অঞ্চলের বসতবাড়ি ও স্থাপনাগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে তছনছ হয়ে যাচ্ছে বিছনাকান্দির স্বাভাবিক পরিবেশ ও হিমশীতল শান্ত রূপ।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, এই পরিবেশবিধ্বংসী অপকর্মের সাথে স্বপনের পাশাপাশি বিছনাকান্দি গ্রামের মাসুম, জয়নাল ও আফজালসহ একটি শক্তিশালী চক্র প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, প্রতিদিন কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুটপাট হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব ভূমিকা পালন করছে দায়িত্বশীলরা। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলকে নিয়মিত ‘বখরা’ দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে আইনকানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছে এই অপরাধী চক্রটি।
দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বিছনাকান্দির প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও প্রতিবেশ রক্ষা করতে অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার মেশিন জব্দ করা এবং প্রভাবশালী এই লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ অধিবাসীরা।



















