সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানা আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা র্যালিতে সামনের সারিতে ব্যানার ধরে হাঁটতে দেখা গেছে এক চিহ্নিত মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামিকে।
সেই কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সিলেট জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ ও নানা গুঞ্জন। পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আলী বটল। তিনি খাদিমনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা এবং এয়ারপোর্ট থানার বড়বন্দ (সাহেবের বাজার) এলাকার মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পূর্বে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশব্যাপী পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট-২’ অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের মদদদাতা ও স্থানীয় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও মাদকসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। নির্বাচনের পুরো সময় তাকে জেলহাজতেই কাটাতে হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পূর্বে বটল আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য মতাদর্শের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হতেন। পুলিশকে সাথে নিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের ওপর হয়রানি ও গ্রেপ্তারের পেছনে তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ ব্যবসার চাটুকারিতা এবং মাদক কারবারের সাথে জড়িত থেকে যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
ক্ষমতা ও সরকার পতনের পর রাতারাতি রঙ বদলে বটল এখন ‘সুশীল’ সাজার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের ধারাবাহিক মাদকবিরোধী সচেতনতা র্যালিতে তার এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়া দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যে নিজে মাদকের ব্যবসা করে এবং বিরোধী মতের মানুষকে পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করিয়েছে, সে আজ পুলিশের মাদকবিরোধী র্যালির সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে! এটা পুলিশের তদারকির চরম অভাব নাকি অন্য কোনো রহস্য, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে খতিয়ে দেখা দরকার।



















