সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং ওই প্রবাসীর পরিবারকে লাগাতার হুমকি-ধামকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্ত যুবদল নেতার অত্যাচার থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে এই লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন প্রবাসী মো. আব্দুল মান্নানের ভাবি নাছিমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাছিমা আক্তার বলেন, আমরা শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মহলুল সুনাম এলাকার বাসিন্দা। আমার দেবর মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রিপা আক্তারের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে আমাদের পুরো পরিবার বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আইনগতভাবে আমার দেবর তাকে তালাক দিলেও রিপার পরকীয়া প্রেমিক শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিল আমাদের বসতবাড়ির সম্পদ হরণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, যুবদল নেতা আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে দুইবার তাদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
প্রবাসী জীবনের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আব্দুল মান্নান প্রায় চার বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) ছিলেন। প্রবাসে থাকা অবস্থায় কঠোর পরিশ্রমের অর্জিত প্রায় ৩০ লাখ টাকা তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠান। কিন্তু রিপা আক্তার তার প্রেমিক আব্দুল জলিলের সহায়তায় সেই সঞ্চিত ৩০ লাখ টাকাসহ যাবতীয় স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নিঃস্ব অবস্থায় দেশে ফিরে এসে বর্তমানে মান্নান রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে রিপা আক্তারকে আইনগতভাবে তালাক দেন তিনি। তবে তালাকের পরও যুবদল নেতা আব্দুল জলিল ও রিপার ক্যাডার বাহিনীর কারণে পুরো পরিবারটি বর্তমানে মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে শায়েস্তাগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল জলিলের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি




















