সিলেট নগরীতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মোবাইল চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বিগত কয়েকদিন থেকে সিলেট নগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। মাঝে মধ্যে দু-একজন ছিঁচকে ছিনতাইকারী আটক হলেও মূলহোতা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
বিশেষ করে মোবাইল ছিনতাই যেন নিত্যনৈমিত্তিক একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউ। গত এক মাসে সিলেট নগরীতে অর্ধশতাধিক চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে জনমনে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নগরবাসী, ঘরে বাইরে তাদের এখন চুরি ও ছিনতাই আতঙ্ক তাড়া করছে।
তবে এবার এসব ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারসহ তাদের গডফাদারদের গ্রেফতারের জন্য এসএমপি পুলিশ কমিশনারের কঠিন নির্দেশের পর মাঠে নামছে একাধিক টিম। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে ডিবির সদস্যরা মাঠে নেমেছে। অনেক ছিনতাইকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশও বিব্রত। এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার যেকোনোভাবে মূলহোতাদের গ্রেফতারের আওতায় নিয়ে আসতে চায় পুলিশ।
ছিনতাইকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবেনা। এমনটি জানালেন এসএমসপি মিডিয়া অফিসার সাইফুল ইসলাম।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ও কিনব্রিজ, জিন্দাবাজার, শাহজালাল মাজার, আম্বরখানা, কদমতলী বাস টার্মিনাল, উপশহর, শিবগঞ্জ, আম্বরখানা, টিলাগড়, তেররতন, ওসমানী মেডিকেল, রেলষ্টেশন, হুমায়ূন রশিদ চত্বর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছিনতাইকারী সংঘবদ্ধচক্র বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে।
এসএমপির তথ্যমতে, নগরীতে গত বছরের নভেম্বরে ১৯টি চুরি, ৮ টি ছিনতাই ও একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগের মাস অক্টোবরে একটি ডাকাতি, ৫ টি ছিনতাই ও ১২টি চুরির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় রীতিমতো প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের সম্মুখীন করছে। ছিনতাইকারীদের টার্গেট থেকে বাদ যাচ্ছে না সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষক, চাকরিজীবী, ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ নগরীতে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ। সিলেট বন্দরবাজার এলাকার মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায় প্রতি ঘণ্টায় একটি ঘটে থাকে।
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক



















