তামাবিল মহাসড়কে ‘ব্যারিকেড পার্টি’র ত্রাস: গডফাদার নুরুল!

  • প্রকাশের সময় : ২৫/০৬/২০২৬ ০৭:২৯:৫২ PM

Share
18

৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে এখন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে ‘ব্যারিকেড পার্টি’ খ্যাত একদল বেপরোয়া চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী। দলীয় নাম ভাঙিয়ে মহাসড়কে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এই সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে শীর্ষ চোরাকারবারি নুরুল ইসলাম সুহাগ।

জানা যায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাতে খাদিমপাড়া মর্ডান গেইট এলাকায় দেশীয় টমেটো বোঝাই একটি লেগুনা আটকে এক আড়তদারের কাছে চাঁদা দাবি করে নিজেকে ছাত্রদল নেতা দাবি করা ফাহিম ও তার দলবল। চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্যেই ব্যবসায়ীকে হেনস্তা ও গাড়ি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চলে। এসময় যুবদল নেতা খালেদ ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ইসলাম উদ্দিন অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে উল্টো তাদের ওপরই চড়াও হয় চাঁদাবাজরা। পরবর্তীতে নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে এবং প্রতিবাদকারীদের হেয় করতে ঘটনার খণ্ডিত ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয় অভিযুক্ত ফাহিম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই পুরো চক্রের গডফাদার নুরুল ইসলাম সুহাগ একসময় ফার্মেসির সামান্য কর্মচারী থাকলেও সীমান্ত চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করে আজ সে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক। কোনো রাজনৈতিক পদ না থাকলেও যুবদলের নাম ভাঙিয়ে সে ফাহিম, তামিম, এন্ডা আলাই, ইয়াবা জামিল, কামরান, আলিম, জয়নাল ও আলালদের নিয়ে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে। এর আগে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনাতেও এই চক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

নুরুলের অপরাধের ফিরিস্তি দীর্ঘ। গত ৯ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুরমা গেইট এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ৪ হাজার ৫০০ কেজি (৯০ বস্তা) ভারতীয় পেঁয়াজসহ দুটি পিকআপ জব্দ করে। ওই ঘটনায় ৩ জনকে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মূল হোতা নুরুল ও ইমরানের নাম। এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের হওয়া মামলায় (মামলা নং- ১০/২০০) নুরুল পলাতক আসামি। অথচ আড়ালে থাকা তো দূরের কথা, সে দিব্যি প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মহাসড়কে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট চালাচ্ছে।

চোরাকারবারি ও একাধিক মামলার আসামি প্রকাশ্যে এমন তাণ্ডব চালালেও শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ জানিয়েছেন, তিনি চাঁদাবাজির বিষয়টি অবগত নন, তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন। প্রশাসনের এমন নির্বিকার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল।

রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাজনীতি ও লুটপাটে লিপ্ত এই ‘ব্যারিকেড পার্টি’ ও গডফাদার নুরুলের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি পদক্ষেপ না নিলে মহাসড়কের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন এলাকাবাসী। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২৫ ১৯:২৯:৫২