জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়খুল হাদীস
উবায়দুল্লাহ ফারুক বলেছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার
পর থেকে সীমান্তে ভারতীয় মুসলিমদের পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিএসএফ,
প্রতিনিয়ত কুড়িগ্রাম রৌমারী সীমান্ত, নওগাঁ, ঠাকুরগাও সহ বিভিন্ন সীমান্তে
নারী-শিশুসহ পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, অনেকে দুইদেশের শূন্য রেখায়
দিনের পর দিন মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাশাপাশি রয়েছে মিয়ানমারের
রোহিঙ্গারাও। এদিকে কয়েকদিন পূর্বে সিলেট সীমান্তেও বাংলাদেশীদের যায়গা
অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। সীমান্তে ভারতের বিজিপি সরকারের এই
নোংরা রাজনীতি বন্ধ না হলে দুই দেশে উত্তেজনা বাড়বে।
বৃহস্পতিবার
(২৫ জুন) সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্ত হোটেল মেট্রোতে, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
বাংলাদেশ সিলেট জেলা উত্তর শাখার কাউন্সিল ও সদস্য সম্মেলনের প্রধান
অতিথির বক্তব্যে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক আরও বলেন, আমরা সত্যকে সত্য এবং
মিথ্যাকে জাতির সামনে বাতিল হিসেবে উপস্থাপন করবো। রাজনৈতিক দল হিসেবে
জাতিকে সতর্ক করতে হবে দেশী বিদেশি বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে।
সম্মেলনে
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি বর্ষীয়ান
রাজনীতিবিদ আব্দুর রব ইউসুফি বলেন, ২০২৭ এর বাজেটে কিছু দিক ইতিবাচক হলেও
আমরা লক্ষ্য করে দেখেছি বরাবরের মতো দেশের বৃহৎ অংশ কওমী মাদ্রাসা
কেন্দ্রীক কোনো বাজেট নেই। তিনি বলেন, সরকারি চাকরি চাই, কিন্তু সেই চাকরির
জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বাজেট চাই না, এটা বাস্তবসম্মত
চিন্তা নয়। কর্মসংস্থান আসে পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে, স্লোগানের
মাধ্যমে নয়।
কাউন্সিলে প্রধান বক্তার বক্তব্যে দলের সিনিয়র
যুগ্ম-মহাসচিব বাহাউদ্দীন জাকারিয়া বলেন, ইন্টেরিম সরকার বাংলাদেশকে
পরাশক্তি আমেরিকার কাছে একধরনের বর্গা দিয়ে চলে গেছে। পার্বত্য অঞ্চলগুলো
নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা পরাশক্তি ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক
চাই, গোলামী চাই না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখি।
আমরা চাই চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশে নিয়ে আসা। ডিজিটাল অর্থনীতি ও
প্রযুক্তি তথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চীনের উন্নত
প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে
বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হোক।
চীন
বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক দেশ। বাংলাদেশের পোশাক খাতের
জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টেক্সটাইল ইনপুটের একটি বড় অংশ চীন থেকে আসে।
তবে দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক
রহমানের এই সফরে বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বাংলাদেশী পণ্যের
শুল্কমুক্ত সুবিধা আরো বাড়ানোর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
সংগঠনের সভাপতি
শায়খুল হাদীস আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক
মুফতি ইবাদুর রহমান ও বাহাউদ্দীন বাহারের যৌথ পরিচালনায় বিশেষ অতিথির
বক্তব্যে দলের সহ-সভাপতি ও বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদের সভাপতি নাজমুল
হাসান কাসেমী বলেন, জমিয়তের জন্মই হয়েছে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র থেকে
মাতৃভূমিকে রক্ষা করা, দ্বীন ও মিল্লাতের রক্ষণাবেক্ষণ করা। দেশ ও জনগণের
স্বার্থে আমরা জমিয়তের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে
একক প্রার্থী দিয়ে ফলাফল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
অনুষ্ঠানের
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর আহমদ কাসেমী।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা দক্ষিণ জমিয়তের সভাপতি
মুফতি মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় আইন বি. সম্পাদক এডভোকেট মুহাম্মদ আলী,
মাওলানা ইসমাইল খান, সিলেট মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা নিজাম উদ্দিন,
অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, সিলেট কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুশতাক
আহমদ খান, শায়খ শফিকুল হক সুরাইঘাটী, আব্দুল মুছব্বির কলাবাড়ি, মাওলানা
মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ মাসরুর আহমদ, শরিফ উদ্দিন বড়বন্দী, প্রমুখ।
কাউন্সিলে
নতুন কমিটিতে সভাপতি শায়খুল হাদীস আতাউর রহমান কোম্পানিগঞ্জী ও মুফতি
ইবাদুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা পরবর্তী
শপথ পাঠ করান সদরে জমিয়ত উবায়দুল্লাহ ফারুক।



















