ট্রাক থামিয়ে ‘গাড়িপ্রতি টাকা’—কোম্পানীগঞ্জ চেকপোস্ট নিয়ে প্রশ্ন

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৭/২০২৬ ০৩:২৮:০০ AM

Share
7

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে একটি পুলিশ চেকপোস্টকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের দাবি, চেকপোস্টটি নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের বদলে বালু-পাথরবাহী ট্রাক থেকে অর্থ আদায়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ভোলাগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কের উপজেলা পরিষদ গেটসংলগ্ন ওই চেকপোস্টে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে বালু ও পাথর পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ট্রাকগুলো থামানো হয়। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সাধারণ পোশাকে থাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রবিন মিয়া ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদারের সামনে এমন একটি ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তাদের পুলিশ সদস্য মনে করে দুটি ট্রাক চেকপোস্টে থামে। এ সময় এক চালক ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘স্যার, সভাপতির গাড়ি।’ পরে ইউএনও তাকে সহকারী কমিশনারের কাছে পাঠালে চালক এক হাজার টাকা এগিয়ে দিয়ে বলেন, ‘স্যার, টাকাটা নেন।’

সহকারী কমিশনার টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চালক বলেন, ‘গাড়িপ্রতি টাকা।’ ঘটনাটি চেকপোস্টের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাক অবৈধভাবে বালু ও পাথর পরিবহন করেছে। বর্তমানে এ সংখ্যা কমে এলেও প্রতিদিন দুই শতাধিক ট্রাক চলাচল করে বলে দাবি তাদের। অভিযোগ রয়েছে, এসব ট্রাক থেকে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অনেক সময় ট্রাকের নম্বর আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে চেকপোস্টে হিসাব অনুযায়ী অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাঝে মাঝে সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে গিয়েও টাকা লেনদেন হয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, চেকপোস্টে সংগৃহীত অর্থ থানার বিভিন্ন খরচে ব্যবহৃত হয়।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। তাদের অভিযোগ, সীমান্ত দিয়ে আসা পণ্য, বালু-পাথর পরিবহন এবং বিভিন্ন অবৈধ কার্যক্রম ঘিরে একটি অর্থনৈতিক চক্র সক্রিয় রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, চেকপোস্টে নিয়মিত পুলিশ দায়িত্ব পালন করে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই নুর মিয়াও। তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা যেতে পারে।

সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
 বিনোদন ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৯ ০৩:২৮:০০