প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

টিলার মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় জাহাঙ্গীরনগরে ভুয়া স্বামী-স্ত্রী সাজিয়ে মালিককে হেনস্তা

  • প্রকাশের সময় : ০৯/০৭/২০২৬ ০১:৩১:২৯ PM

Share
8

সিলেটের জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় অবৈধ টিলার মাটি কাটার প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তির ওপর প্রতিশোধ নিতে অভিনব প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। 


ভুয়া স্বামী-স্ত্রী সাজিয়ে কলোনিতে ঘর ভাড়া নেওয়া, ভাড়া বকেয়া রাখা এবং পরবর্তীতে সাজানো নাটক তৈরি করে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে গত রাতে এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এয়ারপোর্ট থানাধীন জাহাঙ্গীরনগর এলাকার বাসিন্দা ফজলু মিয়া (৫৯) এলাকার প্রভাবশালীদের অবৈধ টিলা কাটার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানান এবং বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী হাফিজ মিয়া (৪০) ফজলু মিয়া ও তাঁর পরিবারকে দেখে নেওয়ার সরাসরি হুমকি প্রদান করেন।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রভাবশালী হাফিজ মিয়ার ইন্ধনে প্রায় তিন মাস পূর্বে ইয়াসমিন বেগম (২৭) ও মানিক মিয়া (৩৩) নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ফজলু মিয়ার ভাতিজা আনছার মিয়ার কলোনিতে ৩,০০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় একটি কক্ষ নেন। ঘর ভাড়া নেওয়ার পর থেকে তারা কোনো ভাড়া পরিশোধ না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।


গত ৩ এপ্রিল দুপুরে কলোনির অন্যান্য ভাড়াটিয়াদের সামনে বকেয়া ভাড়া চাইলে ১ নম্বর বিবাদীনি ইয়াসমিন বেগম আবারও সময় দাবি করেন। এ সময় তারা আসলে প্রকৃত স্বামী-স্ত্রী নন—এমন গোপন খবর জানতে পেরে কলোনির মালিক আনছার মিয়া তাঁদের চলতি মাসের মধ্যে ঘর ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেন।


ভাড়াটিয়াদের ঘর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে প্রভাবশালী হাফিজ মিয়ার বাড়িতে বৈঠক করেন। তাঁর প্রত্যক্ষ কু-পরামর্শে গত ৩ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তারা কলোনিতে অনধিকার প্রবেশ করেন। সেখানে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি সাজানো নাটক উপস্থাপন করে আনছার মিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান এবং মারধরের চেষ্টা করেন। শুধু তা-ই নয়, অসৎ উদ্দেশ্যে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় ও পরিবারটিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে বিবাদীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায়।


এই প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফজলু মিয়া বাদী হয়ে হাফিজ মিয়া, ইয়াসমিন বেগম, মানিক মিয়া, আরিফুল ইসলাম নাহিদ (২৭), আজিজুল ইসলাম নিশাদ (২৫)-সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে বিবাদী করে এয়ারপোর্ট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।


এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০৯ ১৩:৩১:২৯