প্রতিবাদ করায় পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় জিডি

জাহাঙ্গীরনগরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘হাফিজ মেম্বার’ সিন্ডিকেটের বেপরোয়া টিলা কাটা

  • প্রকাশের সময় : ২৯/০৬/২০২৬ ১২:২৬:২৪ PM

Share
22

সিলেট সদর উপজেলার ৬নং টুকেরবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর ও আশপাশের এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারও প্রকাশ্যেই শুরু হয়েছে পরিবেশবিধ্বংসী পাহাড় ও টিলা কাটা। ইতিপূর্বে পরিবেশ আইনে মামলা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের পরও দমানো যাচ্ছে না একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে। উল্টো নির্বিচারে টিলা কাটার প্রতিবাদ করায় এবং ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চক্রটির বিরুদ্ধে। এ নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর, গোয়াবাড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এক্সেভেটর (মাটি কাটার যন্ত্র) দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা পাহাড় ও টিলার মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এড়াতে চক্রটি অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে; তারা দিনের পাশাপাশি গভীর রাতের আঁধারেও ট্রাক ও ডাম্পারযোগে কেটে নেওয়া মাটি বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগোলিক ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।


এলাকাবাসীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, এই অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবহন সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে স্থানীয় ‘হাফিজ মেম্বার’। তাঁর সহযোগী হিসেবে মাঠ পর্যায়ে টিলা কাটার তদারকি ও পরিবহনে কাজ করছে ড্রাইভার মিনাল, মতিন মিয়া, বিরাজুল, মুহিবুর, ইকবাল, রাজু মিয়া ও রুবেল মিয়াসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বেও নির্বিচারে টিলা কাটার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে হাফিজ মেম্বারসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা হয়েছিল। ওই মামলার পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই সিন্ডিকেট।


টিলা কাটা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এক নারী ওই জিডিতে অভিযোগ করেন, টিলা কাটায় বাধা দেওয়া ও প্রতিবাদ করার পর থেকে হাফিজ মেম্বার ও তাঁর লোকজন তাঁদের পরিবারকে ক্রমাগত ভয়ভীতি, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। জিডি করার পর থেকে ওই পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে।


স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা বলছেন, সিলেট অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড়-টিলা কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে ভূমিধস, মাটির ক্ষয় এবং জননিরাপত্তার বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে অপরিকল্পিতভাবে খাড়া করে টিলা কাটার কারণে যেকোনো সময় মাটি ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।


বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থানীয় পরিবেশবাদী সংস্থাসমূহ মনে করছে, প্রাকৃতি ধ্বংসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এই অঞ্চলের অবশিষ্ট টিলাগুলোও অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগরের সাধারণ অসহায় বাসিন্দারা।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস ডেস্ক

সিলেটপ্রেস ডেস্ক

প্রকাশ: ২০২৬-০৬-২৯ ১২:২৬:২৪