চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে প্রায় ৩৩০ কোটি ৮৭ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
একই সময়ে বিভিন্ন মামলায় ১৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল মাদক, অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু।
সোমবার (২৯ জুন) সকালে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ।
তিনি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ময়মনসিংহ, সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও কুমিল্লা সেক্টর এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নসমূহের সদস্যরা ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব সাফল্য অর্জন করেছেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আলোচ্য সময়ে পরিচালিত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে প্রায় ৩০৯ কোটি ২১ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৩৭ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানে প্রায় ২১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মামলায় ১০২ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
শুধু ময়মনসিংহ সেক্টরেই অভিযানের মাধ্যমে ১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এ সময় একজন আসামিকে আটক করা হয়। একই সময়ে ৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ২৮ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামিসহ একটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশ কিংবা বহির্গমনের তথ্য পাওয়া মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত অভিযানে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৪ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ১৫টি অবৈধ অস্ত্র এবং ১০৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নুরুল আমিন বায়েজীদ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সীমান্তে চোরাচালান, মাদক, মানবপাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাহিনী 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সীমান্তবর্তী জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় সীমান্তবাসীর প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপদ থাকলে দেশ নিরাপদ থাকবে। ভবিষ্যতেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের কল্যাণে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাবে।



















