সিলেটে বিএনপি নেতা ইন্তাজ আলীর মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল, তোলপাড়

  • প্রকাশের সময় : ০২/০৭/২০২৬ ১১:২১:১৯ AM

Share
11

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইন্তাজ আলীর একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গোটা উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।


ইয়াবা সেবন এবং পরকীয়া সংক্রান্ত নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই জনপ্রতিনিধি।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘রুহুল আমীন’ নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারীর আইডি থেকে ৪৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ এবং কিছু স্থিরচিত্র ভার্চুয়াল জগতে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, জৈন্তাপুরের নিজপাট ইউনিয়নের সারিঘাট ঢুপি গ্রামের ফয়জুল ইসলাম ফজলু নামের এক ব্যক্তির ঘরে বসে ইয়াবা সেবনে মগ্ন ইউপি চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী। আর ফজলু নিজে লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে তাকে ইয়াবা সেবনে সাহায্য করছেন।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফজলুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, ফজলু নিজেও একজন পুরনো মাদকসেবী এবং তার ঘরে বসেই বিএনপি নেতা ইন্তাজ আলী নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। তবে সম্প্রতি চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলী ফজলুর স্ত্রীকে তাঁর কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীর এই দূরত্বের কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ফজলু প্রথমে নিজের আইডি থেকে এবং পরবর্তীতে রুহুল আমিনের আইডি ব্যবহার করে এই ভিডিও ও স্থিরচিত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন।


ফজলু তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে খোলামেলাভাবে লিখেছেন, “...চেয়ারম্যান এবং বিএনপির থানা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমাকে বাবা (ইয়াবা) খাওয়া শিখিয়েছে। এখন আমার বউয়ের সাথে লিংক (পরকীয়া) করে আমাকে আলাদা করে রেখেছে। আমি তিনটা বাচ্চা নিয়ে অসহায় আছি। আমি মানবজাতির কাছে বিচার দিলাম।” তবে পরবর্তীতে পোস্টটি ফজলুর টাইমলাইন থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ না হওয়ায় এখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে জোর লিয়াজোঁর চেষ্টা চলছে।


ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মো. উবায়দুল্লাহ নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ইন্না-লিল্লাহ!’, শিমুল আহমদ লিখেছেন, ‘নাউজুবিল্লাহ’। পারভেজ আলী নামের একজন লিখেছেন, ‘জৈন্তাপুর চোরাচালান ও নেশামুক্ত করা রক্তে রক্তে মিশে আছে।’ অন্য এক ব্যবহারকারী কটাক্ষ করে লিখেছেন, ‘ইমনরে কইছিল হে গাঁজাকুর, এখন দেখি হে বাবাকুর।’ তবে ভিন্ন মতাবলম্বী কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বর্তমান প্রযুক্তির যুগে ভিডিওটি এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দিয়ে তৈরি বা ডিপফেকও হতে পারে।


এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে নিজপাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইন্তাজ আলীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাঁর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, অভিযোগকারী ফয়জুল ইসলাম ফজলুর মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।


জৈন্তাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাফিজ এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও বিস্তারিত কিছু জানি না। খোঁজ-খবর নিয়ে পরে জানাতে পারব।” তবে পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।


নিজপাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান বলেন, আমি দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল বাড়িতে রেখে এসেছি। বিভিন্ন জনের মুখে ঘটনাটি শুনেছি কিন্তু নিজে এখনও দেখিনি। ভিডিওটি দেখলে বুঝতে পারব ঘটনা আসলে কী।


জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেনি। বিষয়টি সম্পর্কে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা নেই। তবে ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দেখবে।


সিলেট প্রেস / aa


কমেন্ট বক্স
সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

সিলেটপ্রেস প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-০২ ১১:২১:১৯