মৌলভীবাজারে কমছে বন্যার পানি, বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি

  • প্রকাশের সময় : ১২/০৭/২০২৬ ০৬:৩৪:৪১ PM

পানি নামলেও দুর্ভোগ কাটেনি; বিশুদ্ধ পানি সংকটে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে

Share
9

মৌলভীবাজারে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশের অভাবে বাড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি।

টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চার দিন পর শনিবার সকাল থেকে মনু ও ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করলে নিম্নাঞ্চলের অনেক এলাকা থেকে পানি নামতে থাকে। তবে ঘরবাড়ি থেকে পানি সরে গেলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জেলা সদর, রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এ সময় প্রায় দুই হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেন।

বন্যার পানি কমলেও অনেক এলাকায় এখনো জমে আছে কাদা ও ময়লা পানি। বিশুদ্ধ পানির সংকটে বাধ্য হয়ে অনেকে দূষিত পানি ব্যবহার করছেন। এতে ডায়রিয়া, আমাশয়, সর্দি-জ্বর ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা জুয়েল মিয়া, মতিন ও ছাদিক মিয়া জানান, কয়েক দিন ঘরবাড়ি পানির নিচে ছিল। শনিবার রাত থেকে পানি নামতে শুরু করলেও এখন পরিবারের অনেকেই জ্বর, ডায়রিয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম কাজ করছে। পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত রয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে।

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য খাদ্যসামগ্রী, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সিলেট প্রেস / এফ কে


কমেন্ট বক্স
নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২০২৬-০৭-১২ ১৮:৩৪:৪১