ওয়েলসের প্রথম ফার্স্ট মিনিস্টার এবং ‘ডিভলিউশনের জনক’ হিসেবে পরিচিত প্রয়াত রাইট অনারেবল রডরি মর্গানের স্মরণে কার্ডিফ বে-তে তাঁর ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) স্থানীয় সময় দুপুরে সেনেড (ওয়েলস পার্লামেন্ট) ভবন ও ঐতিহাসিক পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের মধ্যবর্তী স্থানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। এতে ওয়েলস সরকারের বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, রাজনীতিক, রডরি মর্গানের পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং শত শত সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়েলসের ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস, সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড, ফাইন্যান্স মিনিস্টার এলিন জোন্স, রডরি মর্গানের স্ত্রী জুলি মর্গান, কার্ডিফের লর্ড মেয়র রাইট অনারেবল মাইকেল মাইকেল, রডরি মর্গান ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলীসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রডরি মর্গানের রাজনৈতিক জীবন ও ওয়েলসের স্বায়ত্তশাসন (ডিভলিউশন) প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। জুলি মর্গান বলেন, তাঁর স্বামীর ভাস্কর্যটি ইচ্ছাকৃতভাবে মাটির কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে, কারণ তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের খুব কাছের একজন নেতা।
সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার মার্ক ড্রেকফোর্ড বলেন, রডরি মর্গান ছাড়া বর্তমান সেনেডের অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। ডেপুটি ফার্স্ট মিনিস্টার সিওনেড উইলিয়ামস বলেন, ডিভলিউশনের শুরুর সময়ের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রডরি মর্গান গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
রডরি মর্গান ট্রাস্টের ফাউন্ডার্স ট্রাস্টি কাউন্সিলর দিলওয়ার আলী জানান, প্রায় আট বছর ধরে পরিকল্পনা ও তহবিল সংগ্রহের পর ভাস্কর্যটি নির্মাণ সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়েলসজুড়ে ছোট ছোট আয়োজন, নৈশভোজ এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের অনুদানের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান ও ওয়েলস বাংলা নিউজের সম্পাদক মোহাম্মদ মকিস মনসুর, ওয়েলস বাংলাদেশ উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহমিনা খান, লেখক ও সাংবাদিক দেওয়াল ফয়সাল, সৈয়দ জুয়েল রহমান, সেলিম আহমেদ, আবুল কালাম মুমিনসহ অনেকে।
মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, রডরি মর্গানের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির ছিল গভীর সম্পর্ক। সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা তাঁকে সব মহলে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
পিয়ারহেড বিল্ডিংয়ের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যে রডরি মর্গানকে তাঁর প্রিয় কুকুর ‘টেল’-এর সঙ্গে সেনেড ভবনের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণ পোশাকে নির্মিত এই ভাস্কর্য তাঁর সাদাসিধে ও জনঘনিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাস্কর্যটির নকশা করেছেন খ্যাতিমান ভাস্কর অ্যান্ডি এডওয়ার্ডস। এটি পাউইসের ক্যাসল ফাইন আর্টস ফাউন্ড্রিতে নির্মিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, রডরি মর্গান ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে নবগঠিত ওয়েলস অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব পালন করেন। ডিভলিউশন-পরবর্তী ওয়েলসের স্বতন্ত্র নীতি ও পরিচয় গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০১৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আয়োজকদের মতে, কার্ডিফ বে-তে স্থাপিত এই ভাস্কর্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে রডরি মর্গানের অবদান তুলে ধরবে এবং ওয়েলসের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্টাফ রিপোর্টার



















